Arijita Mukhopadhyay: ‘বাবুর মা’য়ের নামে নিন্দে করে বেড়াচ্ছেন কিছু মানুষ

Spread the love

ছোট পর্দার অতি পরিচিত মুখ তিনি। যদিও তাঁর আসল নাম অরিজিতা মুখোপাধ্যায়, কিন্তু নিম ফুলের মধু ধারাবাহিকের জন্য তিনি দর্শকদের কাছে বাবুর মা হিসেবেই তুমুল খ্যাতি অর্জন করেছেন। আর এ হেন অভিনেত্রী এদিন একটি অসুবিধার কথা জানালেন।

কী ঘটেছে?

এদিন অরিজিতা মুখোপাধ্যায় ফেসবুকের পাতায় একটি পোস্ট করে জানান বহু মানুষ তাঁর ফোন নম্বর চাইছেন। শুধু তাই নয়, তিনি সেই নম্বর না দিলে অনেকে নাকি রাগ বা অভিমান করছেন। অভিনেত্রীর নামে নিন্দে রটাচ্ছেন। এমন অবস্থায় তিনি দর্শকদের থেকে ক্ষমা চেয়ে নিলেন। শুধু তাই নয়, নিজের বক্তব্যও সুস্পষ্ট ভাবে তুলে ধরলেন।

অরিজিতা এদিন লেখেন, ‘আমাদের অভিনেতাদের জীবনে দর্শকদের ভালোবাসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাঁদের আশীর্বাদ আমরা মাথায় তুলে রাখি, কিন্তু সবাই যদি ফোন নম্বর চেয়ে বা না পেলে সেই নিয়ে রাগ বা অভিমান করে আমার নিন্দা করে বেড়ান বা আমাকে অভিযোগ করেন তাহলে আমি খুবই নিরুপায় হয়ে পড়ি। আমি কোনওভাবে কাউকে আঘাত করতে চাই না। কিন্তু ফোন নম্বর না দিলেই তাঁকে অবিশ্বাস বা অপমান করছি সেটা না মনে করলে খুব খুশি হব। অনেকেই আমাকে ইদানিং নম্বর দিতে বলেন। আমি নতজানু হয়ে জানাচ্ছি যে আমার পক্ষে সেটা সম্ভব নয়। দয়া করে কেউ খারাপ মনে করবেন না। তাতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা নষ্ট হবে যা কাম্য নয় । আপনাদের যদি আমাকে চিঠি লিখতে ইচ্ছে হয় জানাবেন, ইমেইল অ্যাড্রেস দেব। আপনাদের পাতার পর পাতা চিঠি পড়তে আমার ভালোই লাগবে। ভালো চিঠি পেলে সেগুলো যত্ন করে ফাইল করে রাখব, যদি আপনাদের অনুমতি থাকে, সুলেখকদের চিঠি পড়েও শোনাতে পারি ফেসবুক লাইভে এসে। আমাদের ছোটবেলায় রেডিওতে অসাধারণ সব চিঠি পড়া হত ‘গানের ভেলা’, ‘মহিলা মহল’ বা ‘গল্প দাদুর আসর’-এ। তেমন চিঠি পেলে পড়ে শোনানোই যায়। আমার উপর রাগ অভিমান না করে বরং চিঠি লিখুন। সারাজীবন থেকে যাবে।’

তিনি এদিন আরও লেখেন, ‘ফোন নম্বর একটি অত্যন্ত কাজের এবং ব্যক্তিগত আমানত। কাউকে আমি আমার ফোন নম্বর দেব কিনা সেটাও একান্ত ব্যক্তিগতভাবে আমার সিদ্ধান্ত। এবার জানাই, আমি আমার কতিপয় বন্ধু, সহকর্মী এবং বাড়ির মানুষদের ছাড়া ফোন নম্বর শেয়ার করতে আগ্রহী নই। যাঁরা কাজের প্রয়োজনে আমার ফোন নম্বর জোগাড় করে আমার সঙ্গে কথা বলেন তাঁদের কথা আলাদা, তাছাড়া আমার নম্বর জোগাড় করে আমার অনুমতি ছাড়া বেশ কিছু মানুষ আমায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন গল্প করবেন বলে বা আমাকে তাঁদের আবেগ জানাবেন বলে, তাঁদের জানাই, আমি বিষয়টা ভালো ভাবে নিইনি।’

অনেকেই বাবুর মাকে এই বিষয়ে সমর্থন করেছেন। এক ব্যক্তি লেখেন, ‘খুব সুন্দর, স্পষ্ট এবং মার্জিত ভাবে বাউন্ডারি লাইন টেনে দিলেন।’ দ্বিতীয় ব্যক্তি লেখেন, ‘আপনি মুখের ওপরে সত্যি কথাটা বলেছেন এটাই অনেক। আর নম্বর চাইবেই বা কেন, আমার কথা হচ্ছে এটাই। আপনি ভালো অভিনয় করেন, ভালো কাজ করেন সেটাই দর্শক হিসেবে এটা নিয়ে খুশি থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। তাতে আপনার ব্যক্তিগত ফোন নম্বর চাওয়া যে চেয়েছে বা যারা চাইছে তারা অত্যন্ত ভুল।। আসলে কি বলুন তো ম্যাম আমাদের সমাজটা না সত্যিটাকে মেনে নিতে চায় না বা পারে না নিতে। আপনি মুখের উপর বলেছেন বলে তাই তাদের কাছে আপনি খারাপ হয়ে গেছেন।’ আরেকজন মশকরা করে লেখেন, ‘আপনার ফোন নম্বর চাই না তবে একদিন দেখা করে কফি খাওয়ালেও তো পারেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *