সদ্য পাকিস্তানের ক্ষমতার কার্যত অলিন্দে এক তাবড় তখত দখল করেছেন সেদেশের সেনার চিফ আসিম মুনির। এবার তিনি পাকিস্তানের ‘চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস’ (CDF), ফলে কার্যত তিনি পাক মুলুকের ক্ষমতার ‘সর্বেসর্বা’ হয়ে উঠেছেন। সোমবার তিনি পাকিস্তানের সিডিএফ হিসাবে প্রথম ভাষণ দেন পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির চাকলালার জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে।আর সিডিএফ-র পদে বসেই প্রথম ভাষণেই আসিম মুনিরের টার্গেটে আসে ভারত।
এদিন আসিম মুনিরের ভাষণে আধুনিক যুদ্ধপন্থার বার্তা উঠে আসে পাকিস্তানের সেনার প্রতি। আধুনিক যুদ্ধের উদীয়মান ক্ষেত্র, যেমন সাইবারস্পেস, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম, মহাকাশ, তথ্য পরিচালনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-র প্রসঙ্গ আসে আসিম মুনিরের ভাষণে। আর এই সমস্ত ক্ষেত্রের সঙ্গে পাকিস্তানকে তাল মিলিয়ে চলতে হবে বলে আহ্বান জানান আসিম মুনির। এরই সঙ্গে দিল্লির জন্য় এক হুঁশিয়ারি উঠে এসেছে আসিম মুনিরের রাওয়ালপিন্ডির ভাষণ থেকে। তিনি বলেন, ভারত যেন ‘কোনও ভুল ধারণার মধ্যে না থাকে,কারণ…’ কোনও ধরনের পদক্ষেপ হলেই ‘পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া হবে আরও দ্রুত এবং কঠোর।’ তাঁর বার্তাতে তালিবানের প্রতি হুঁশিয়ারিও উঠে আসে। মুনির বলেন, তালিবানকে বেছে নিতে হবে দুষ্টবৃত্ত আর পাকিস্তানের মধ্যে কোনও এককে। এছাড়াও এদিনের ভাষণে, সদ্য সিডিএফ হয়ে সিডিএফ হেডকোয়ার্টারকে মুনির ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই, পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ইমরান, আসিমকে ‘মানসিকভাবে অস্থির’ বলেও দাবি করেন। জেলবন্দি ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাঁর বোন আলিমাও আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন। আলিমা বলেন,’যখনই আসিম মুনিরের মতো মৌলবাদী ক্ষমতায় থাকবেন, তখন ভারতের সঙ্গে তো যুদ্ধ করতে চাইবেনই। এমনকী ভারতের বন্ধু দেশগুলিও ভুগবে।’ এই ঘটনার পর পাকিস্তানের সেনার আইএসপিআর নাম না করে ইমরান খানকে পাকিস্তানের ‘ন্যাশনাল থ্রেট’ (দেশের জন্য হুমকি) বলে অভিহিত করে। আর এরপরই পাকিস্তানের নয়া সিডিএফ-র তরফে এল দিল্লির জন্য এই হুঁশিয়ারি।
