বিএনপিকে ভোট দেওয়ায় হুমকি এবং হামলার শিকার হিন্দু পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে নোয়াখালির হাতিয়ায়। এই ঘটনায় পরিবারের এক নারী সদস্যের ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাঁকে দেখা যাচ্ছে কান্নাকাটি করতে। তিনি বলছেন, তাঁদের গালিগালাজ করে হুমকি দিয়েছে স্থানীয় জামাতিরা। এদিকে আওয়ামী লীগের তরফ থেকেও একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছে, নোয়াখালিতে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলা চালাচ্ছে জামাত জোটের হান্নান মাসুদ এবং এলাকার এনসিপি কর্মীরা।
এলাকা দখলের নামে নোয়াখালিতে বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে এনসিপি এবং জামাত জোট। হিন্দুদের ভয় দেখানো হচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ফল ঘোষণার পরে নোয়াখালির হাতিয়াতে প্রায় ১০টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
এদিকে নির্বাচন ও ফল ঘোষণার পরে এনসিপি-জামাতের হামলার প্রতিবাদে নোয়াখালিতে হিন্দুরা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। হাতিয়া উপজেলায় হিন্দুরা মানববন্ধন করেন। প্রতিবাদী হিন্দুরা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান। হিন্দুদের অভিযোগ, ভোটের দিন এবং তারপরে হামলার খবর মোতায়েন থাকা নৌবাহিনীকে জানিয়েও লাভ হয়নি। স্থানীয় পুলিশও কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।
উল্লেখ্য, নির্বাচনে জয়ের পরে বাংলাদেশি হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভয় দিয়েছিলেন বহু বিএনপি নেতা। তা সত্ত্বেও ইউনুসের বিদায়বেলাতেও হিন্দুদের ওপর অত্যাচার জারি বাংলাদেশে। হিন্দুদের বিভিন্ন মন্দিরে এরই মধ্যে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠল। কোথাও মন্দির প্রাঙ্গন থেকে গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তো কোথাও মন্দিরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আবার কোথাও মন্দির এবং প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ভোটের ফলাফল বের হতে না হতেই এই সব ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে। এই পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা।

রিপোর্ট অনুযায়ী, নোয়াখালি ছাড়াও বাংলাদেশের বহু স্থানে অত্যাচারিত হিন্দুরা। দেশ জুড়ে বেশ কিছু হিন্দু মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে সম্প্রতি। রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু পাড়ায় ঢুকে কালী মন্দিরের গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সিলেট তারাপুর মন্দিরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠে এসেছে। রংপুরের নীলফামারী জেলার ৩ নং খোকশাবাড়ি সাবুল্লীপাড়ার শ্মশানের কালী প্রতিমা ও মন্দির ভাঙচুরের অভিযোগও সামনে এসেছে। এদিকে জানা গিয়েছে, ঠাকুরগাঁও পাঁচপীরে সংখ্যালঘু হিন্দু বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে বীরগঞ্জে নির্বাচনি ফলাফল ঘোষণার পরপরই হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। এর আগে ভোটের দু’দিন আগেই রংপুরের পীরগঞ্জের হিন্দুর বাড়িতে খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।