Avimukteshwaranand POCSO Case। নাবালকদের ধর্ষণের অভিযোগ! পকসোর ধারায় মামলা অভিমুক্তেশ্বরানন্দের নামে

Spread the love

শঙ্করাচার্য অভিমুক্তেশ্বরানন্দের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করল পুলিশ। আদালতের নির্দেশের কয়েক ঘণ্টা পরেই ঝুনসি থানায় শঙ্করাচার্যের বিরুদ্ধে পকসো আইনের ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এফআইআরে অভিমুক্তেশ্বরানন্দের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের যৌন হেনস্থা ও ভয় দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিমুক্তেশ্বরানন্দ, তাঁর শিষ্য মুকুন্দনন্দ ব্রহ্মচারী এবং অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। শনিবার আশুতোষ ব্রহ্মচারীর আবেদন অভিমুক্তেশ্বরানন্দ ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেন আদালত। এরপরই শনিবার গভীর রাতে ঝুনসি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

জগৎগুরু রামভদ্রাচার্যের শিষ্য আশুতোষ ব্রহ্মচারী শঙ্করাচার্যের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের শোষণের অভিযোগ করেছিলেন। আদালতে দুই নাবালক ছেলের বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছিল এই মামলায়। আশুতোষ ব্রহ্মচারীর অভিযোগে বলা হয়েছে, মাঘ মেলায় তাঁর শিবিরে দুই নাবালক ছেলে এসে অভিযোগ করে যে তাদের যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়। ২০২৫ সালের মহাকুম্ভ এবং ২০২৬ সালের মাঘ মেলায় এই দুই ছেলেকে বেশ কয়েকবার জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রতিবাদ করা এই দুই নাবালকে ভয় দেখিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে, যৌন হেনস্থার শিকার হওয়ার সময় এক নির্যাতিত নাবালক প্রায় ১৪ বছর বয়সি ছিল এবং অপর এক নির্যাতিত নাবালকের বয়স ১৭ বছর ছিল। এর জেরে পকসো আইনের অধীনে স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার জন্য নির্দেশ দেয় আদালত।

উল্লেখ্য, শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মুক্তি নির্মাণ ট্রাস্ট এবং শাকুম্ভরী পীঠাধীশ্বরের সভাপতি আশুতোষ ব্রহ্মচারী গত ২৮ জানুয়ারি ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৭৩(৪) ধারার অধীনে অভিযোগ দায়েরের জন্য প্রয়াগরাজ আদালতে একটি আবেদন দায়ের করেন। আবেদনের শুনানি শেষে, ধর্ষণ এবং পকসো বিশেষ আদালত এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী আশুতোষ ব্রহ্মচারীর বক্তব্য আদালতে রেকর্ড করা হয়েছে। আশুতোষ ব্রহ্মচারী অভিযোগ করেছিলেন যে স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর শিষ্যরা তাদের গুরুর সেবা করার নামে এই শিশুদের যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দেয়।

আশুতোষ ব্রহ্মচারীর দাবি করেন, নির্যাতিত শিশুদের বক্তব্য এবং গুরুতর প্রমাণের ভিত্তিতে তিনি প্রথমে ঝুনসি থানায় মামলা দায়েরের করার জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ মামলা দায়ের করতে অস্বীকার করলে তাঁকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর লালসার শিকার প্রায় ২০ জন নাবালকের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছিলেন বলে দাবি করেন আশুতোষ ব্রহ্মচারী। এমনকী শুধু নাবালক নয়, অনের নারীও নাকি অভিমুক্তেশ্বরানন্দের লালসার শিকার হয়েছেন। নারীদের যৌন নির্যাতনের সিডিও রয়েছে বলে জানান আশুতোষ ব্রহ্মচারী। সেই সিডি তিনি আদালতে জমা করেছেন। অবশ্য, স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ বলেন যে, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। এদিকে শঙ্করাচার্যের শিষ্য স্বামী মুকুন্দানন্দ গিরি আদালতে ১০৪ পৃষ্ঠার একটি হলফনামাও দাখিল করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *