Bahubali Rocket In Naval Op। নৌ প্রতিরক্ষার কাজে এবার ‘হাত লাগাবে’ বাহুবলী রকেট

Spread the love

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। তারপরেই ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO লঞ্চ করবে সবচেয়ে ভারী রকেট বাহুবলী। নৌবাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ দৃঢ় করতে স্যাটেলাইট লঞ্চ করবে ইসরো। এই মিশনেই ব্যবহার করা হবে ইসরোর বিশ্বস্ত এবং শক্তিশালী রকেট ‘বাহুবলী’। এর টেকনিকাল নাম Launch Vehicle Mark-3 (LVM-3)। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে রবিবার বিকেল ৫টা ২৬ মিনিটে এই উৎক্ষেপণটি হওয়ার কথা। শ্রীহরিকোটা থেকে এই রকেট মডেলটি এই নিয়ে অষ্টমবার উৎক্ষেপণ করা হবে।

কেন LVM-3 রকেট?

LVM-3 রকেটটি ইসরোর একটি সফলতম যান। এর পূর্ববর্তী সাতটি উৎক্ষেপণেই ১০০ শতাংশ সাফল্য রয়েছে। এই রকেট ২০২৩ সালে ভারতের ঐতিহাসিক চন্দ্রযান-৩-কে সফলভাবে বহন করে মহাকাশে পৌঁছে দিয়েছিল। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই হেভি-লিফট লঞ্চারটির আকার বিশাল। এটি ৪৩.৫ মিটার লম্বা, যা প্রায় ১৫ তলা একটি বহুতলের সমান। উৎক্ষেপণের সময় এর ওজন হবে ৬৪২ টন। যা প্রায় ১৫০টি পূর্ণবয়স্ক এশীয় হাতির মোট ওজনের সমান। এই শক্তিশালী রকেটটির নির্মাণে আনুমানিক খরচ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এটির ১৬ মিনিটের উড়ানে দেশীয় ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে।

নৌবাহিনীর জন্য বিশেষ স্যাটেলাইট CMS-03

এই রকেটে যে স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে, তার নাম ‘CMS-03’। এটি সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা যোগাযোগের জন্য নিবেদিত। ৪,৪০০ কেজি ওজনের CMS-03 ভারতের মাটি থেকে উৎক্ষেপণ করা জিওসিঙ্ক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটের (GTO) উদ্দেশ্যে সবচেয়ে ভারী যোগাযোগ উপগ্রহ। এটি GSAT-7, বা ‘রুক্মিণী’ নামক উপগ্রহটির স্থানে বসানো হবে। ২০১৩ সাল থেকে রুক্মিণী দেশের নৌবাহিনীকে মূল্যবান পরিষেবা দিয়ে আসছে। নতুন স্যাটেলাইটটি বিভিন্ন ব্যান্ডের মাধ্যমে কাজ করতে সক্ষম। ভারতের উপকূলরেখা থেকে ২,০০০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা নৌবাহিনীর সমস্ত সম্পদকে সুরক্ষিত যোগাযোগের মাধ্যমে সংযুক্ত করতে পারবে এটি।

অপারেশন সিঁদুরে রুক্মিণীর ভূমিকা

অতীতে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় এর ‘রুক্মিণী’ স্যাটেলাইটটি পাকিস্তান নৌবাহিনীকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। এছাড়াও, LVM-3 ‘বাহুবলী’ রকেটের নয়া সংস্করণটি ভবিষ্যতে ভারতের মানববাহী মহাকাশ উড়ান ‘গগনযান মিশন’-এর শক্তি যোগাবে। এই উৎক্ষেপণ ভারতের নৌ প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *