সামনেই তো পয়লা বৈশাখ। কী ভাবছেন? বছর শুরুতেই একটু বাংলাদেশি ইলিশ চেখে দেখবেন? সেই সুযোগ আদৌ হবে কিনা, তার উত্তর দেবে সময়। কিন্তু, ওপারের সাধারণ মাছ বিক্রেতারাই বলছেন, ইলিশের যা হাল, তাতে নাকি এবারের পয়লা বৈশাখে ভারতে ইলিশ রফতানি করার কথা সরকারের ‘ভুলেও ভাবা উচিত নয়’! একথা বাংলাদেশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেই উঠে এসেছে।
কিন্তু, আম বাংলাদেশি মাছ বিক্রেতারা এমন কেন বলছেন? আসলে পরিস্থিতিই অনুকূলে নেই। বর্ষবরণের আগে বাংলাদেশের বিভিন্ন মাছ বাজারে ইলিশের বড়ই আকাল। যেটুকু মাছ পাওয়া গিয়েছে, তাও বেশিরভাগই আকারে ছোট। আর এক-একটি মাছের ওজন কেজির ধারেকাছে পৌঁছলেই প্রতি মণে তার দর হাঁকা হচ্ছে লক্ষ টাকা!
হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। বাংলাদেশি বিভিন্ন পত্র পত্রিকার খবর বলছে, মাঝারি আকারের ১ মণ ইলিশের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লক্ষ টাকারও বেশি! প্রসঙ্গত, ১ মণ ইলিশ মাছ – অর্থাৎ – ৪০ কিলোগ্রামের কিছু কম (প্রায় ৩৭ কেজি ৩২ গ্রাম)।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল, ২০২৫) বরিশালের পোর্ট রোড বাজার ও মোকাম ঘুরেও খুব অল্প পরিমাণ ইলিশেরই দেখা মিলেছে বলে জানান দিচ্ছে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম। তাতে ওই বাজার এলাকায় ইলিশের মণ প্রতি যে খুচরো দর (বাংলাদেশি মুদ্রায়) তুলে ধরা হয়েছে, তা হল – ‘১ কেজি ২০০ গ্রাম সাইজের মাছ প্রতি মণ ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গিয়েছে। ১ কেজি আকারের ইলিশের মণ ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা, আধা কেজি (৫০০ গ্রাম) ওজনের মাছ ৫৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে!’
এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে অবস্থা কতটা সঙ্গীন। এদিকে, ইলিশ প্রিয় বাঙালির তো মন আনচান করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অনেকেই ইলিশ কিনবেন বলে থলি হাতে বাজারে ঢুঁ মারছেন। কিন্তু, দাম শুনেই পিটটান দিচ্ছেন।
স্থানীয় মৎস্য বিক্রেতা, মৎস্যজীবীদের সংগঠন ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এই সময় বিভিন্ন জায়গায় মাছ ধরার উপর বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলত, মাছ খুব অল্প পরিমাণে ধরা পড়ছে। শুক্রবার স্থানীয় বাজারে সকালের দিকে ৫০ মণও মাছ আসেনি। পরে অবশ্য বেলা বাড়ার পর জোগান কিছুটা বাড়ে। কিন্তু, তাতে দাম কমেনি।
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, চাহিদার তুলনায় জোগান যদি এতটাই কম থাকে, তাহলে পয়লা বৈশাখে ইলিশের দাম আরও বাড়বে। এর উপর যদি ভারতে মাছ রফতানি করা হয়, তাহলে স্থানীয় বাজারে জোগান আরও কমবে। দাম আরও নাগালের বাইরে যাবে। সেই কারণেই মৎস্যজীবী থেকে মাছ বিক্রেতা, সকলেই মনে করছেন, এই অবস্থায পয়লা বৈশাখে অন্তত ভারতে মাছ পাঠানোর কথা ভাবা উচিত নয়।
তবে, মৎস্য দফতরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বর্ষা নামলে, নদীতে জল বাড়লে ইলিশের পরিমাণ ফের বাড়তে পারে। তখন কি তাহলে ভারতে ইলিশ পাঠানো হবে? এর উত্তর আপাতত অজানা।