বাংলাদেশের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন তারেক রহমান। তাঁর মন্ত্রিসভার শপথ হতে পারে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি। তার আগে তারেকের ক্যাবিনেটের ‘মুখ’ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। সঙ্গে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে একজন হিন্দু নেতার নাম নিয়ে। বাংলাদেশি সংবাদপত্র প্রথম আলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, তারেকের মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন সদ্য নির্বাচিত সাংসদ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ভোটে জেতার পরে তারেকের প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনের মঞ্চে ছিলেন গয়েশ্বর। এর আগেও খালেদা জিয়ার সময়ে গয়েশ্বর মন্ত্রী ছিলেন।
এর আগে ১৯৯১-৯৬ সালে গয়েশ্বর বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি টেকনোক্র্যাট হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সাংসদ হিসেবে এই প্রথম তিনি জয়লাভ করেছেন। এর আগে একাধিকবার ভোটে লড়লেও কোনওবারই জিততে পারেননি গয়েশ্বর।
উল্লেখ্য, এবার বিএনপি ৬ জন সংখ্যালঘুকে ভোটে টিকিট দিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দু’জন হিন্দু ভোটে জিতেছেন। মাগুরা-২ আসন থেকে বিএনপির টিকিটে লড়াই করে জয়ী হলেন নিতাই রায় চৌধুরী। জামাত প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়ে বেশ বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন নিতাইবাবু। মাগুরা-২ (শালিখা, মহম্মদপুর) আসনে নিতাই রায় চৌধুরী ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৬ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে লড়াই করা জামাত নেতা মুশতারশেদ বিল্লাহ পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৯৯ ভোট। নিতাই নিজে প্রাক্তন মন্ত্রী। তিনি আবার গয়েশ্বরের আত্মীয়। নিতাইয়ের কণ্যা নিপুণ গয়েশ্বরের পুত্রবধু।

আর ঢাকা-৩ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জয়ী হয়েছেন বিএনপির টিকিটে। বাংলাদেশ সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঢাকা-৩ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামাতে ইসলামির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মহম্মদ শাহিনুর ইসলাম ৮২ হাজার ২৩২ ভোট পেয়েছেন।