২০২৪ সালের ৫ অগস্ট গণঅভ্যুত্থানের আবহে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ত্যাগ করার পর থেকেই বাংলাদেশিদের ভিসা পরিষেবা সীমিত করে দিয়েছে ভারত। ভারত যখন প্রথম ভিসা পরিষেবা স্থগিত করেছিল, সেই সময় অনেক বাংলাদেশিকে পাসপোর্ট নিয়ে ভারতীয় ভিসা সেন্টারের বাইরে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। তবে আশাহত হতে হয়েছিল বহু মানুষকে। তবে এখন জরুরি ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পাসপোর্টে ভিসার স্ট্যাম্প পড়ছে। সেই বাংলাদেশি পাসপোর্ট বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় আছে?
আন্তর্জাতিক সংস্থা নোমাড ক্যাপিটালিস্টের সদ্য প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশের পাসপোর্ট আছে ১৮১তম স্থানে। এই তালিকায় গতবছর বাংলাদেশ ছিল ১৮২তম স্থানে। এই আবহে বাংলাদেশ এই বছর একধাপে ওপরে উঠেছে। এই বছর ৩৮ স্কোর পেয়েছে বাংলাদেশ। অন-অ্যারাইভাল ভিসা এবং ভিসামুক্ত ভাবে বিশ্বের ৫০টি দেশে ভ্রমণ করার সুযোগ আছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট হোল্ডারদের।
এদিকে এই তালিকায় ভারত আছে ১৪৮তম স্থানে। ভারতের স্কোর ৪৭.৫। এদিকে পাকিস্তানের স্কোর ৩২। ক্রমতালিকায় পাকিস্তান ১৯৫তম স্থানে। এদিকে নেপালের স্কোর ৩৯.৫, মায়ানমারের স্কোর ৩৭.৫। এই তালিকায় শীর্ষে আছে আয়ারল্যান্ড। তাদের স্কোর ১০৯। ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা পেয়ে ১৭৬টি দেশে ভ্রমণ করতে পারে আয়ারল্যান্ডবাসীরা।
এদিকে বর্তমানে বাংলাদেশিদের মেডিক্যাল ও জরুরি ভিসা দেওয়া হলেও তা সীমিত। এই আবহে গত মার্চ মাসে ভিসা ইস্যুতে সম্প্রতি প্রশ্ন করা হয়েছিল বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে। সেই সময় বাংলাদেশি বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ বলেছিলেন, ‘ভিসা জটিলতা আমরা তৈরি করিনি। ভিসা একটি সার্বভৌম অধিকার। কোনও দেশ যদি কাউকে বা কোনও গোষ্ঠীকে ভিসা না দেয়, তবে এ নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলা যাবে না। এটি তাদের সিদ্ধান্ত। আমরা আশা করব, তাদের সিদ্ধান্ত আমাদের জানাবেন বা কার্যকলাপ বাড়াবেন, যাতে ভারতে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিরা ভিসা পেতে পারেন।’ প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের অগস্ট পর্যন্ত ১৫ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশিদের ভিসা দিত ভারত। তবে হাসিনা পরবর্তী সময়ে মেডিক্যাল বা জরুরি ভিসা বাদে অন্য কোনও ভিসা দিচ্ছে না ভারত সরকার। এদিকে মেডিক্যাল ভিসাও সীমিত সংখ্যা ইস্যু করা হচ্ছে।