Bangladesh Jamaat-e-Islami। প্রথমবার ভাষা দিবসে ফুল দিতেই প্রশ্নে জর্জরিত ‘পাক-ভক্ত’ জামাত

Spread the love

প্রথমবারের মতো একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হলেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। একের পর এক প্রশ্নে জর্জরিত হলেন। সেইসঙ্গে পড়লেন চরম কটাক্ষের মুখে। যদিও সেইসব কটাক্ষের মুখে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামির প্রধান দাবি করেছেন যে বিরোধী নেতা হিসেবে ‘দায়িত্ব’ পালন করতে এসেছেন। বিরোধী দলের নেতা হিসেবে আসতে হত, তাই এসেছেন। যদিও তাতে রাগের বহিঃপ্রকাশ থামেনি। রীতিমতো ক্ষোভের সুরে একজন বলেন, ‘যারা বাংলাদেশর স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল, আজ তারা এসেছে শহিদ মিনারে, এ লজ্জা রাখব কোথায়।’ একইসুরে অপর একজন বলেন, ‘যাদের মাধ্যমে শহিদ হয়েছে, তারাই নাকি আবার শহিদদের স্মরণ করছে।’

আর সেই ক্ষোভের আগুনটা আগে থেকেই জ্বলছিল। শফিকুর যে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাবেন, তা জামায়াতে ইসলামির তরফে আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। সেইমতো শুক্রবার রাতে (ইংরেজি মতে শনিবার) ঘড়ির কাঁটা ১২ টা পার করার পরই ১১ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আসেন জামায়াত ইসলামির প্রধান। সেখানে শ্রদ্ধা জানান ভাষা শহিদদের। অর্পণ করেন পুষ্পস্তবক।

‘এখনও কি এই জামাত এটাকে অবৈধ বলে মনে করে?’

সেই রেশ ধরেই একের পর এক প্রশ্নে জর্জরিত হন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামির প্রধান। অতীতে কখনও ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শহিদ বিমানে জামাতের নেতাদের পুষ্পস্তবক দিতে দেখা যায়নি। তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এক সাংবাদিক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘জামাত সাধারণত কখনও ফুল দিতে আসেনি। আজ কী মনে করে এলেন? এখনও কি এই জামাত এটাকে অবৈধ বলে মনে করে?’

বাধ্য হয়ে শহিদ মিনারে? প্রশ্নে জর্জরিত জামাত প্রধান

ওই প্রশ্নে দৃশ্যতই বিব্রত হয়ে যান জামাতের প্রধান। তিনি বলেন, ‘এবার রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধী দলের নেতা হিসেবে আমাদের সঙ্গীদের এখানে আসতে হবে, তাই আমি এসেছি।’ সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনি এই প্রশ্ন কেন আজ করছেন? এই ধরনের একটা পবিত্র অনুষ্ঠানে….। না করাই ভালো।’ আর সেটা বলতে-বলতেই ক্যামেরার থেকে দূরে চলে যেতে থাকেন।

‘লোক দেখানোর জন্য শহিদ মিনারে’, কটাক্ষ জামাতের প্রধানকে

তারপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম কটাক্ষের মুখে পড়েছেন জামায়েত প্রধান। আওয়ামি লিগ সমর্থক ঝর্ণা চৌধুরী দাবি করেছেন, ‘এরা দেশদ্রোহী, রাজাকার। এরা কখনও বাংলা ভাষা চায়নি, বাংলাদেশ চায়নি। এখন আবার রূপ পরিবর্তন করে লোক দেখানোর জন্য শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছে।’ একইসুরে অপর একজন বলেন, ‘রাজাকারদের যেনো শহিদ মিনারে জায়গা দেওয়া না হয়, ৫ অগস্টের পরে কতগুলো শহিদ মিনার ভেঙেছে, শহিদদের সম্মানে আঘাত করেছে। আজ জাতির সামনে নাটক করতে শহিদ মিনারে গেলেন ধর্ম ব্যবসায়ীরা। তাঁদের শহিদ মিনারে কোনওরকম গ্রহণযোগ্যতা নেই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *