২০২৪ সালে তথাকথিত জুলাই আন্দোলন শুরু হয়েছিল ‘মুক্তিযুদ্ধ কোটার’ বিরুদ্ধে। এর আগে কোটা সরিয়েছিল হাসিনার সরকারই। যদিও আদালতের নির্দেশে ফিরেছিল কোটা। পরে আন্দোলনের মাঝে কোটার পক্ষে আদালত রায় দিয়েছিল। তবে আন্দোলন আর থামেনি। সেই আন্দোলন হয়ে উঠেছিল হাসিনা বিরোধী আন্দোলন। সেখান থেকে হাসিনাকে বিতাড়িত করার পরে বিগত প্রায় ১৯ মাস ধরে ক্ষমতা ভোগ করেছে বিপ্লবীরা। সরাসরি ইউনুসের সরকারে গুটিকয়েক ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টা হলেও সরকারের ওপর তাদের প্রভাবই বিস্তার করছিল। এরই মাঝে এই বিপ্লবীদের সঙ্গে জামাতের আঁতাতও স্পষ্ট হয়। জোট বেঁধে ভোটে লড়ে এনসিপি এবং জামাত। আর তাতে তারা মনে করেছিল, জয় হবে তাদেরই। তবে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী এই শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। আর তাতেই এবার বিএনপি-আওয়ামী আঁতাত দেখছে এনসিপি।
নির্বাচনে মাত্র ৬টা আসন পাওয়ার পরে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অভিযোগ করেছেন, বিএনপি আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে ক্ষমতায় এসেছে। বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে বন্ধ থাকা আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস খুলে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভূমিকা রাখছেন। এতে দুই দলের মধ্যে সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েই বিএনপি নির্বাচনে জয়লাভ করেছে।
এদিকে আসিফ আরও অভিযোগ করেন, বেশ কয়েকটি আসনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে এনসিপিকে হারানো হয়েছে। অন্তত ৩টি আসনে এনসিপিকে জোর করে হারানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আসিফ। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের পর এনসিপির নেতাকর্মী ও জোটের প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। তাঁর আরও অভিযোগ, বিএনপিকে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী করাতে প্রশাসন ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ফলাফল নিয়ে কারসাজি করেছে। এদিকে বাংলাদেশের গণভোটে ‘হ্যাঁ ভোট’ জয়ী হয়েছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশে সংবিধান সংস্কারের পথ খুলেছে। তবে বিএনপি এত বিপুল পরিমাণে ভোট পাওয়ায় সেই সংস্কার আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন আসিফ মাহমুদ। তবে তিনি এও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কোনও ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া যাবে না।
