বাংলাদেশি সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ডের মন্তব্যে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছে ঢাকা। এমনিতেই হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প আসার পর থেকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কে একটা ‘অস্বস্তি’ দেখা দিয়েছে। এই আবহে তুলসির মন্তব্যের জেরে কি বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কে প্রভাব পড়বে? এই নিয়ে এবার বড় দাবি করলেন ইউনুসের সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘তুলসি গ্যাবার্ডের মন্তব্যে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্কের কোনও সমস্যা হবে না।’
ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে ইসলামি সন্ত্রাস এবং বাংলাদেশি সংখ্যালঘুদের জন্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন আমেরিকার তুলসি গ্যাবার্ড। আর তাতেই ঘুম উড়েছে বাংলাদেশের। প্রসঙ্গত, ১৭ মার্চ দিল্লি থেকে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তুলসি বলেছিলেন, ‘হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর দীর্ঘকাল ধরে চলা দুর্ভাগ্যজনক নির্যাতন, হত্যা এবং অত্যাচার নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুবই উদ্বিগ্ন।’ উল্লেখ্য, তুলসি গ্যাবার্ড নিজে হিন্দু। এই আবহে বাংলাদেশি হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় তিনি সহানুভূতিশীল। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের সর্বত্রই হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের বিষয়ে বরাবরই সরব থেকেছেন তুলসি। তিনি নিজে মার্কিন কংগ্রেসের প্রথম হিন্দু নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। পরে ডেমোক্র্যাটদের ত্যাগ করে তিনি ট্রাম্পের প্রশংসায় গলা ফাটান ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে।
তুলসির এই মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছিল ঢাকা। ১৭ মার্চ রাতেই এই নিয়ে এক বিবৃতি প্রকাশ করে ইউনুসের সরকার বলে, ‘গভীর উদ্বেগ ও দুঃখের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (ডিএনআই) প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নির্যাতন ও হত্যা করা হচ্ছে এবং ইসলামি সন্ত্রাসীদের হুমকি রয়েছে।’
ঢাকার তরফ থেকে আরও বলা হয়েছিল, ‘আরও দুঃখজনকভাবে, তিনি এসব হুমকির শিকড় ইসলামি খিলাফতের শাসন ও পরিচালনার আদর্শের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। বাংলাদেশ বরাবরই শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইসলামের ঐতিহ্যের জন্য সুপরিচিত। বাংলাদেশ সন্ত্রাস ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তুলসি গ্যাবার্ডের মন্তব্য নির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ বা গ্রহণযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে নয়; বরং এটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রকে অন্যায়ভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করে। বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও চরমপন্থার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তবে এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সামাজিক সংস্কার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যাচ্ছে।’