ঝাড়খণ্ডে কর্মরত মুর্শিদাবাদের শ্রমিক খুন ঘিরে শুক্রবার থেকে অশান্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদগের বেলডাঙা। দফায় দফায় সেখানে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। টানা ২ দিন ধরে এই অশান্তির পর, রবিবার সকাল থেকে থমথমে বেলডাঙা। ইতিমধ্যেই অশান্তি ঘিরে একাধিক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্য বলছে, গ্রেফতার হয়েছে মূলচক্রী। জানা গিয়েছে, স্থানীয় বডুয়া মোড় থেকে গ্রেফতার হয়েছেন মতিউর রহমান। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, মারধর ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মতিউরের বিরুদ্ধে।
এদিকে, বেলডাঙায় ট্রেন চলাচলের পরিস্থিতি এখনও সেভাবে স্বাভাবিক হয়নি। জানা যাচ্ছে, গত ২ দিনের অশান্তির জেরে উপড়ে গিয়েছে সিগন্যাল পোস্ট। অভিযোগ রয়েছে বিক্ষোভকারীদের ঘিরে। ভাঙচুর চালানো হয় রেলগেট এবং একাধিক ক্লক রুমে। তার ফলেই ট্রেন পরিষেবা এখনও স্বাভাবিক করা যায়নি। জানা গিয়েছে, শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় প্রতি দিন যেভাবে ট্রেন চলে তা স্বাভাবিক চলাচল করলেও, তা কৃষ্ণনগর পর্যন্ত যাচ্ছে। তার পর তা ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় অসুবিধেয় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে, স্টেশনগুলিতে বাড়তি আরপিএফ মোতায়েন করে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বেশ কিছু রিপোর্টের দাবি বেলডাঙা কাণ্ডে ধৃত মতিউর রহমান বেলডাঙা ১ ব্লকের সভাপতি। এর আগে, অশান্তি থামাতে ময়দানে নামে পুলিশ। এসপি কুমার সানি রাজ পরিস্থইতি মোকাবিলার সময় জানিয়েছিলেন, ‘কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও দেখে শনাক্ত করা হবে। যেখানেই থাক তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে।’ এরপর মতিউরের গ্রেফতারি। জানা যাচ্ছে, তাঁর সঙ্গে মিমের যোগ রয়েছে।এর আগে, মুর্শিদাবাদের ওই শ্রমিকের ঝাড়খণ্ডে খুনের ঘটনায়, তাঁর দেহ গ্রামে পৌঁছতেই বিক্ষোভ শুরু হয়। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ হয়। ট্রেন অবরোধ শুরু হয়। শুক্রবারের সেই অশান্তি শনিবারেও অব্যাহত থাকে। প্রশ্ন ওঠে, রাজ্যের শ্রমিকরা কেন ভিন রাজ্যে আক্রান্ত হচ্ছেন? এদিকে, একের পর এক ভাঙচুর চলে। গোটা ঘটনায় শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী ৩০ জন গ্রেফতার হয়েছেন।
