শুক্রবারের মতোই শনিবারও অশান্তি ছড়াল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। শুক্রবার ঝাড়খণ্ডে আলাউদ্দিন শেখ নামে এক ফেরিওয়ালার মৃত্যু ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। আর শনিবার বিহারে এক পরিযায়ী শ্রমিককে মারধরের অভিযোগে বেলডাঙায় তাণ্ডব চালানো হয়েছে। ভাঙচুর চালানো হয়েছে বেলডাঙা স্টেশ সংলগ্ন রেলগেটে। রেলের সিগন্যালও ভেঙে ফেলা হয়েছে। তার জেরে ব্যাহত হয়েছে রেল পরিষেবা। সড়কপথেও যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বড়ুয়া মোড় কাছে রাস্তায় অবরোধ করা হয়। তার জেরে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। মারধর করা হয়েছে সাংবাদিকদেরও। শুক্রবার জি ২৪ ঘণ্টার সাংবাদিক সোমা মাইতি এবং চিত্রসাংবাদিককে মারধর করা হয়েছিল। আর আজ আক্রমণের মুখে পড়েন এবিপি আনন্দের সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ এবং চিত্রসাংবাদিক।
বাড়তি বাহিনী পাঠাচ্ছে রেল
তারইমধ্যে ট্রেন পরিষেবা নিয়ে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ কে দেউস্কর জানিয়েছেন, বেলডাঙার যা পরিস্থিতি, সেটা মাথায় রেখে বাড়তি পাঠানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে বড় বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার।
শুক্রবার শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানান মুখ্যমন্ত্রী
এমনিতে শুক্রবার বেলডাঙার অশান্তির প্রেক্ষিতে শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গে যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় যে অশান্তি ঘটছে, সেটার নেপথ্যে কাদের প্ররোচনা আছে, তা সকলেই জানেন। কিন্তু কারও প্ররোচনায় পা না দিয়ে শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি অভিযোগ করেন, অশান্তি ছড়ানোর জন্য উস্কানি দিচ্ছে বিজেপি। এমনকী কেন্দ্রীয় এজেন্সিকেও সেই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফ্রাইডে (শুক্রবার) জুম্মাবার। পবিত্র বার। যেমন শিবেরও বার, মা দুর্গারও বার, সন্তোষী মাতারও বার। তেমনই ফ্রাইডে জুম্মার নমাজ হয়। এখন যদি দুর্গাপুজো দেখতে এসেছে কোটি-কোটি লোক, সেখানে আপনি যদি একটা মাইক লাগিয়ে দেন, তাহলে সবাই শুনবে তো। ফ্রাইডে জুম্মাবার, এমনি সংখ্যালঘুদের কাছে একটা সেন্টিমেন্ট (ভাবাবেগ) আছে। সেখানে সবাই ফ্রাইডে জুম্মার নমাজ করতে এসেছে।’

বিজেপির দিকে আঙুল তোলেন মুখ্যমন্ত্রী
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ‘এখানে কেউ-কেউ যদি তার রাজনৈতিক (স্বার্থ) চরিতার্থ করার জন্য উসকে দেয়…। সংখ্যালঘুদের ক্ষোভটা স্বাভাবিক। আমিও এর জন্য ক্ষুব্ধ। তাঁদের একতরফা বাদ দিতে পারে না।’ সেইসঙ্গে তিনি বলেন, বিজেপি ‘প্ল্যান’ করে বাংলায় হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ভোটে পারবে না জেনেই এরকম করছে বলে অভিযোগ করেন মমতা।