পুরনো প্যানেল বাতিল হয়ে গিয়েছে। তারপর যে নতুন পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, তার ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। সেই আবহে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে (এসএসসি) দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু দাবি করলেন, অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে পরীক্ষা নিয়েছে এসএসসি। প্রশ্নপত্রের সঙ্গে কার্বন পেপার দেওয়া হয়েছে। যেভাবে এসএসসি পরীক্ষা নিয়েছে, তা দেশের কোথাও হয়েছে বলে জানা নেই বলেও দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। সেইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে প্যাঁচে ফেলতেই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বানচালের চেষ্টা করছে বিরোধী দলগুলি।
‘আমি মনে করি না কোর্ট ভেদে বা বিচারক ভেদে আইন বা বিচার বদলায়’
তারইমধ্যে ব্রাত্য দাবি করেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে বলে আশাপ্রকাশ করছেন। আদালত যা নির্দেশ দিচ্ছে, সেইমতো কাজ করা হচ্ছে। শীর্ষ আদালত যেমনটা বলেছিল, সেরকমভাবে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় রাজ্য সরকার এবং কমিশন। সেই বিষয়ে তাঁরা আশাবাদী বলেও জানিয়েছেন ব্রাত্য। সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না কোর্ট ভেদে বা বিচারক ভেদে আইন বা বিচার বদলায়।’
সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়েছে এসএসসি
আর তিনি যখন সেইসব কথা বলছেন, তার একদিন আগেই সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসনার মুখে পড়েছে এসএসসি। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছিল, ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিলের সময় বলা হয়েছিল যে দাগি অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হননি, এমন প্রার্থীদের নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হোক। তাতে ফ্রেশার্সদের কথা বলা হয়নি। এসএসসি নিজেই পুরনো এবং নতুন প্রার্থীদের একসঙ্গে পরীক্ষা নিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট কী কী বলেছে?
সেইসঙ্গে শীর্ষ আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে একজনও দাগি অযোগ্য প্রার্থীকে চাকরি দেওয়া যাবে না। দিনকয়েক আগে একই কথা বলেছিল হাইকোর্ট। স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে কারও নাম যদি দাগি অযোগ্যদের তালিকায় থাকে, তাহলে তিনি বিশেষভাবে সক্ষম প্রার্থী হলেও নয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। আর বুধবার সুপ্রিম কোর্টও প্রত্যেক দাগি অযোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার কথা বলল। তবে অভিজ্ঞতার জন্য যে প্রার্থীদের ১০ নম্বর দেওয়া হচ্ছে, সেটা বাতিল করতে কিনা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও রায় দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। বরং সেই বিষয়টির পাশাপাশি এসএসসি নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় মামলা কলকাতা হাইকোর্টে ফেরত পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত।