‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের আওতায় ঢেলে সাজানো হচ্ছে চন্দননগর স্টেশনকে। পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, চন্দনগনর স্টেশনকে নতুনভাবে সাজিয়ে তুলতে ৯.৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে সংস্কারের কাজ। আর সংস্কারের মাধ্যমে স্রেফ বাহ্যিক ভোলবদল হচ্ছে না, বরং এক নবজাগরণ হচ্ছে চন্দননগর স্টেশনের। ফরাসি নান্দনিকতার সঙ্গে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটানো হচ্ছে। সার্বিকভাবে ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে স্টেশনকে চন্দননগরের ‘সিটি সেন্টার’ হাব হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে বলে পূর্ব রেলের তরফে দাবি করা হয়েছে।
নতুনভাবে সাজানো চন্দননগর স্টেশনে কী কী থাকছে?
১) বিশ্রামাগার: ১৪০ বর্গমিটারের প্রশস্ত লাউঞ্জ থাকছে। ৫০ স্কোয়ার ফুটের আধুনিক শৌচাগার ব্লকও থাকছে নবনির্মিত চন্দননগর স্টেশনে।
২) প্রযুক্তি-নির্ভর ট্রানজিট: এটিভিএম (অটোমেটিক টিকিট ভেন্ডিং মেশিন), হাই-স্পিড মোবাইল বা ল্যাপটপ চার্জার এবং পরিবেশ-সচেতন যাত্রীদের জন্য ইভি (বৈদ্যুতিন গাড়ি) চার্জিং স্টেশন।
৩) শিল্প ও সংস্কৃতি: স্টেশনের দেওয়ালগুলো ক্যানভাস হিসেবে ব্যবহৃত হবে, যা স্থানীয় ঐতিহ্য এবং শহরের বিখ্যাত শিল্পকলাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলবে।
৪) নতুন স্টেশন ভবন গড়ে তোলা হচ্ছে। ১,৫৭৪ বর্গমিটারের বিশাল প্ল্যাটফর্ম শেড তৈরি করা হবে। ৩,৫০০ বর্গমিটার প্ল্যাটফর্মের উপরের অংশের সংস্কারেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তৈরি করা হচ্ছে একটি ফুট ওভারব্রিজ।

৫) স্টেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা, অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম থাকছে। পরিবেশের কথা মাথায় বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং সৌরশক্তির মতো দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
৬) পূর্ব রেলের তরফে বলা হয়েছে, ‘হলুদ স্ট্রিপ ও থার্মোপ্লাস্টিক লেন মার্কিং দ্বারা চিহ্নিত জরুরি বহির্গমন পথের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে।’
৭) রেলের তরফে বলা হয়েছে, ‘একটি বিশালাকার ভিডিয়ো ওয়াল, একাধিক ট্রেন ইন্ডিকেশন বোর্ড এবং ৪৬টি কোচ গাইডেন্স ডিসপ্লে বোর্ড থাকছে। তার ফলে সহজেই আপনার কোচের অবস্থান জানতে পারবেন।’