বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস সম্প্রতি চিনে গিয়ে উত্তরপূর্ব ভারত নিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য রেখেছিলেন। যা নিয়ে তোলপাড় চলছে। এরই মাঝে এবার এই ইস্যুতে মুখ খুলল কংগ্রেস। একদিকে যেখানে ইউনুসের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করলেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা, অপরদিকে ভারত সরকারের বিদেশ নীতি নিয়ে তো দাগলেন তিনি। এদিকে অসমের কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ আবার ইউনুসকে লেখআ মোদীর চিঠির উল্লেখ করলেন।
উল্লেখ্য, রিপোর্ট অনুযায়ী, চিন সফরে উত্তরপূর্ব ভারতের ৭ রাজ্যকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন ইউনুস। তিনি নাকি বলেছিলেন, ‘উত্তর-পূর্বে ভারতের সাতটি রাজ্য স্থলবেষ্টিত অঞ্চল। তাদের সমুদ্রে পৌঁছনোর কোনও উপায় নেই। এই অঞ্চলে আমরাই সমুদ্রের দেখভাল করি। এটি একটি বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। এটি চিনা অর্থনীতির একটি সম্প্রসারণ হতে পারে।’
এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পবন খেরা বলেন, ‘আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি খুবই বিপজ্জনক। সরকার মণিপুরের দিকে তাকাচ্ছে না। ওদিকে চিন অরুণাচল প্রদেশে একটি গ্রাম প্রতিষ্ঠা করেছে। আমাদের বিদেশনীতি শোচনীয় অবস্থায় আছে। যে দেশটির সৃষ্টিতে আমরা প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলাম, সেই দেশ এখন আমাদের ঘিরে ফেলার চেষ্টায় ব্যস্ত।’ উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন ইন্দিরা গান্ধীর সরকার সক্রিয় ভাবে বাংলদেশিদের সাহায্য করেছিলেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। তবে শেখ হাসিনার বিদায়ের পর থেকে বাংলাদেশ থেকে ধীরে ধীরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে।
আসামের প্রবীণ কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি বাংলাদেশকে চিঠি দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ‘দৃঢ় সম্পর্ক’ তুলে ধরেছিলেন। আর এরপরে উত্তরপূর্ব ভারত এবং চিন সম্পর্কে মহম্মদ ইউনুসের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলি গভীরভাবে উদ্বেগজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। কারণ ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।’ উল্লেখ্য, এর আগেও উত্তরপূর্ব ভারত নিয়ে হুঁশিয়ারির সুর শোনা গিয়েছিল ইউনুসের গলায়। এহেন পরিস্থিতিতে এবার কংগ্রেসও সুর চড়াল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে।