চাকরি বাতিল। চাকরি বাতিলের নির্দেশ বহাল থাকল সুপ্রিম কোর্টেও। রায় শুনে ভেঙে পড়লেন চাকরিহারারা। কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে তা কিছুতেই বুঝতে পারছেন না তাঁরা। তবে এসবের মধ্য়েও পরিবারের মুখের দিকে তাকিয়ে ফের পরীক্ষায় বসতে চান অনেকেই। বলছেন শেষ পর্যন্ত লড়ব।
চাকরি গেল ২৫ হাজার ৭৫২জনের। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন চাকরিহারারা।
লড়াই। আবার নতুন করে লড়াই। চাকরিহারা শিক্ষক শিক্ষিকাদের দাবি, এতদিন পরে যদি ফের পরীক্ষায় বসতে হয় সেটা কতটা সম্ভব?
সুপ্রিম কোর্টে কার্যত বড় ধাক্কা ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেলে যাঁরা চাকরি পেয়েছিলেন। প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দিয়েছেন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভুল ছিল।
এবার প্রশ্ন চাকরি বাতিলের দায় কি এড়াতে পারবে রাজ্য সরকার?
আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে শুরু করেছে এসএসসি। নতুন করে পরীক্ষার ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টই গাইডলাইন ঠিক করে দেবে কি না সেটা জানতে চাইছে এসএসসি কর্তৃপক্ষ।
চাকরি বাতিল নিয়ে মুখ খুলেছেন সিপিএম নেতৃত্ব।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, আরএসএসের ঘরে দুর্নীতি শিখেছে তৃণমূল। এর মূলে ধরতে হবে। গলদের মূলে ধরতে হবে। গলদটা কোথায় ধরতে হবে।
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, টাকা দিয়ে যারা চাকরিতে ঢুকিয়েছে রাজ্য সরকার ও শাসকদল, তাদেরকে রক্ষা করার জন্য যারা যোগ্য তাদেরকে খারিজ করতে হল। অযোগ্যদের পাশে থাকল সরকার। যে সরকারের অপদার্থতায়, যে সরকারের দুর্নীতির জন্য ভয়াবহতায় যোগ্যদের চাকরি চলে গেল, কার্যত তাদের বের করে দেওয়া হল, লাথি মেরে এই সরকারকে বাতিল করা উচিত। এই অপরাধের সঙ্গে যারা যুক্ত আছে তাদেরকে সিবিআই হেফাজতে নিয়ে তদন্ত করুন। যারা টাকা খেলেন তারা বহাল তবিয়তে মন্ত্রীর দফতরে বসে থাকবেন আর টাকার পাহাড় করবেন তারা ছাড় পাবেন আর যোগ্য ছেলেমেয়েরা বাদ পড়বেন এটা কখনও হতে পারে না। দাবি সুজন চক্রবর্তীর।
কার্যত দিশেহারা হাজার হাজার শিক্ষক শিক্ষিকারা। আচমকাই তাঁরা জানতে পেরেছেন হাইকোর্টের রায় বহাল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি নট হয়েছে তাঁদের। ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে আশার আলো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ২০১৬ সালের প্যানেলে যাঁরা ছিলেন তাঁরা ফের পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন।তবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্টতই জানিয়ে দিয়েছেন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যপক দুর্নীতি হয়েছে।
তবে এসবের মধ্য়ে একটা প্রশ্ন বার বারই উঠছে সিপিএম জমানায় কি সব কিছু স্বচ্ছতার সঙ্গে হত?