ঘূর্ণিঝড় ‘দিটওয়াহ’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শ্রীলঙ্কা। প্রবল হাওয়া, মুষলধারে বৃষ্টিপাত এবং বন্যা ও কারণে দ্বীপরাষ্ট্রগুলিতে তাণ্ডব। শ্রীলঙ্কার ব কেন্দ্র (ডিএমসি) অনুসারে, শনিবার সকাল ন’টা পর্যন্ত কমপক্ষে ১২৩ জন মারা গিয়েছেন। আরও ১৩০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এই দুর্যোগে দু’লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দেশজুড়ে বিশেষ করে রাজধানী কলম্বো ও পূর্ব উপকূলে বিপর্যয় হয়েছে। তারইমধ্যে ভারতীয় মৌসম ভবনের তরফে জাবনানো হয়েছে, আপাতত দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন উত্তর শ্রীলঙ্কার উপরে অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড়। যা রবিবার ভোর-সকালের মধ্যে উত্তর তামিলনাড়ু, পুদুচেরি এবং সংলগ্ন অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে পৌঁছে যাবে। আজ মধ্যরাত তামিলনাড়ু উপকূল থেকে ঘূর্ণিঝড়ের দূরত্ব থাকব ৬০ কিলোমিটার। ভোরের দিকে সেই দূরত্ব কমে ৫০ কিমির কাছাকাছি চলে আসবে। আর সন্ধ্যায় সেই দূরত্ব কমে ঠেকবে ২৫ কিমি।
আর সেই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আজ, রবিবার এবং সোমবার তামিলনাড়ুতে ভারী বৃষ্টি হবে। আজ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। আজ ও আগামিকাল উপকূলীয় তামিলনাড়ুে বিক্ষিপ্তভাবে অত্যধিক ভারী বৃষ্টি হবে। আজ থেকে সোমবার পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল অংশে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। আবার আগামিকাল সকাল পর্যন্ত তামিলনাড়ু উপকূলে ঘণ্টায় ৭০-৮০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। আর দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ৯০ কিমি পৌঁছে যাবে কখনও কখনও।
তারইমধ্যে ‘অপারেশন সাগর বন্ধু’-র ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত শ্রীলঙ্কাকে সহায়তা পাঠিয়েছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার টুইট করে শ্রীলঙ্কার জনগণের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। ভারত ‘অপারেশন সাগর বন্ধু’র আওতায় তাৎক্ষণিক ত্রাণ সামগ্রী ও মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে। শনিবার ভোরে হিন্দোন বায়ুঘাঁটি থেকে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) দুটি দল কলম্বোয় পাঠানো হয়েছে।

ভারতীয় বায়ুসেনা সি-৭৬ এবং আইএল-৭৬ বিমান থেকে ২১ টন ত্রাণ সামগ্রী (খাদ্য, ওষুধ, কম্বল ইত্যাদি) এবং আট টন বিশেষ সরঞ্জাম এয়ারলিফট করেছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরও টুইট করে সহযোগিতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভারতের ‘ভিশন সাগর’ নীতির অঙ্গ ‘অপারেশন সাগর বন্ধু’র আওতায় এটি পরিচালিত হচ্ছে।