গত ৮ মার্চ আচমকারী জানা গিয়েছিল জি বাংলার ছোট্ট খুদে রোদ্দুর চট্টোপাধ্যায় ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। মাত্র পাঁচ বছরের এই ছোট্ট ছেলেটি এই মুহূর্তে হাসপাতালের বেডে শুয়ে লড়াই করছে মৃত্যুর সঙ্গে। একমাত্র ছেলেকে বাঁচানোর জন্য ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সাহায্যের আবেদন করেছেন রোদ্দুরের অভিভাবকরা। এবার রোদ্দুরকে দেখতে হাসপাতালে এলেন অঙ্কুশ হাজরা।
হাসপাতালে রোদ্দুরকে দেখে মন খারাপ হয়ে যায় অঙ্কুশের। যে বাচ্চাটি ডান্স বাংলা ডান্সের মঞ্চে লাফালাফি করে বেড়াত, তাকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে দেখে যে একেবারেই ভালো লাগছে না অঙ্কুশের সেটা বলাই বাহুল্য। তবে অঙ্কুশকে দেখে রোদ্দুর অনেকদিন বাদে মন খুলে হেসেছে, এটাই যা সান্তনার।
হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে অংকুশের অসুস্থতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সিটি সিনেমাকে অঙ্কুশ বলেন, ‘আমি জি বাংলার তরফ থেকে প্রথম খবরটা জানতে পারি। তারপরেই ওর সঙ্গে যোগাযোগ করি। ভিডিও কলে কথা হয়। ও যখন আমাকে দেখে বলে, অঙ্কুশ আঙ্কেল তুমি কবে আসবে। শুনে আর থাকতে পারিনি।’
অঙ্কুশ আরও বলেন, ‘আমরা সবাই ওর পাশে থাকার চেষ্টা করছি। খুব তাড়াতাড়ি অসুস্থ হয়ে যাতে বাড়ি ফিরে আসে, সেটাই চেষ্টা করছি আমরা। ওর বাবা-মায়ের থেকে শুনেছিলাম যে অবস্থায় ওকে আনা হয়েছিল তার থেকে অনেকটা ভালো আছে ও। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি ও ভালো হয়ে উঠবে।’
রোদ্দুরের মায়ের কথায়, কিছুদিন আগেই হঠাৎ জ্বর আসে রোদ্দুরের। যেহেতু এই সময় সিজন চেঞ্জ হয়, তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রথমে ভাইরাল জ্বর বলেই মনে করা হয়। কিন্তু পরে জ্বর না কমায় ব্লাড টেস্ট করানো হয় রোদ্দুরের। এরপরই বোঝা যায় ফুসফুসের কিছু অংশ সংক্রমিত হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ভর্তি করানো হয় হাসপাতালে।

এই মুহূর্তে বাইপাস লাগাবার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে রোদ্দুর। হাসপাতালের বিল ইতিমধ্যেই বেশ অনেকটাই হয়ে গিয়েছে। প্রয়োজন আরও ১৫ লক্ষ টাকা। তবে রোদ্দুরের বাবার কথা অনুযায়ী, জি বাংলা ডান্স বাংলা ডান্স পরিবারের গোটা টিম ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করেছেন রোদ্দুরের বাবা মায়ের সঙ্গে। আগামী দিনেও তিনি সবার থেকে সাহায্য পাবেন বলেই আশাবাদী রোদ্দুরের বাবা। এই মুহূর্তে নিজের সন্তানকে সুস্থ ভাবে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াই একমাত্র উদ্দেশ্য রোদ্দুরের অভিভাবকদের।