Donald Trump Tariff Latest Update। একদিনের মাথায় ১০% থেকে শুল্ক বাড়ালেন ট্রাম্প

Spread the love

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে মার্কিন সর্বোচ্চ আদালত। আর এরপরই মার্কিন শীর্ষ আদালতকে তোপ দেগেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই আবহে ট্রাম্প ও মার্কিন বিচার বিভাগের মধ্যকার সংঘাত বড় ধরনের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের আকার ধারণ করছে। এহেন পরিস্থিতিতে ২১ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করলেন যে তিনি বিশ্বব্যাপী আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করছেন।

২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের পারস্পরিক শুল্ক নীতি আদতে বেআইনি। এবং এতদিন ধরে এই নীতিতে যত কর সংগ্রহ করা হয়েছে, তা ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেয় আদালত। আর সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের মাত্র ২৪ ঘণ্টা পরই বৈশ্বিক শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের ‘প্রতিবাদ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে মার্কিন কংগ্রেসকে এড়িয়ে নিজের সিদ্ধান্ত বিভিন্ন দেশের ওপর বিভিন্ন বারে শুল্ক চাপিয়েছিলেন। তবে জরুরি ক্ষমতার অধীনে ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপের পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছে মার্কিন শীর্ষ আদালত। এরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ‘হাস্যকর, দুর্বলভাবে লেখা এবং আমেরিকা বিরোধী’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে রায় দেওয়া বিচারকদেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। একই সময়ে, তাঁর শুল্ক নীতির পক্ষে মত দেওয়া তিন বিচারপতির (ব্রেট কাভানা, ক্লারেন্স থমাস এবং স্যামুয়েল আলিটো) প্রশংসা করেন।

কী ছিল সুপ্রিম কোর্টের আদেশ? প্রসঙ্গত, ১৯৭৭ সালের ‘আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা’ আইনের (আইইইপিএ) অধীনে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক চাপিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি এই আইনের বলে একতরফা ভাবে শুল্ক আরোপ করতে পারেন না। এই সিদ্ধান্তের অর্থ হল ভারত সহ অনেক দেশের উপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক আগের মতোই প্রায় ৩.৫ শতাংশে এ ফিরিয়ে আনতে হবে। যদিও ট্রাম্প ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে কংগ্রেসকে এড়িয়ে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের জন্য একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। আর একদিন যেতে না যেতেই সেই শুল্কের হার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছেন তিনি।

এর ফলে কী প্রভাব পড়বে ভারতের ওপর? ভারতের জন্য আপাতত অনিশ্চয়তা এবং সামান্য স্বস্তির মধ্যে দোদুল্যমান পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত বছর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিল ভারতের ওপরে। পরে আবার রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে শাস্তিমূলক ভাবে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছিল ভারতীয় পণ্যের ওপরে। যার জেরে মোট শুল্ক গিয়ে ঠেকেছিল ৫০ শতাংশে। তবে এই মাসের শুরুতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয় দুই দেশ। এই আবে ভারতের ওপর শুল্ক ধাপে ধাপে কমে ১৮ শতাংশে নামে। এবার যদি সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত কার্যকর হত তবে ভারতের উপর শুল্ক ৩.৫ শতাংশে নেমে আসত। তবে ট্রাম্প নতুন করে বিশ্বব্যাপী শুল্ক ১৫ শতাংশ করার পরে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্কের হার এখন প্রায় ১৮.৫ শতাংশ। এর অর্থ হল, এই মাসের শুরুতে নির্ধারিত ১৮ শতাংশ হারের থেকে ০.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপবে ভারতের পণ্যের ওপরে। ট্রাম্পের আরোপিত এই নতুন শুল্কগুলি কেবল ১৫০ দিনের জন্য বৈধ। এরপরেও এই শুল্ক বজায় রাখতে চাইলে ট্রাম্প প্রশাসনকে মার্কিন কংগ্রেসে এই সংক্রান্ত আইন পাস করাতে হবে। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে তাদের আপাতত এই বৈশ্বিক শুল্কের পরিধির ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *