সোমবার মন্দালয়ের একটি ভেঙে পড়া বিল্ডিংয়ের ধ্বংসস্তূপ থেকে চারজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে এক ছোট্ট মেয়ে এবং এক গর্ভবতী মহিলাও আছেন। এমনিতেই ভূমিকম্পের জেরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে মায়ানমারের মন্দালয় সহ আরও বহু জায়গা। এই আবহে ধ্বংসস্তূপের নীচে থেকে কাউকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। তার মাঝেও চেষ্টায় কোনও ত্রুটি নেই কারও। এই আবহে আবার লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে। তার মাঝে এই চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে ধ্বংসস্তূপের নীচে থেকে। যা প্রায় অবিশ্বাস্য।
এদিকে ভূমিকম্পের এতদিন পরে ব্যাঙ্ককে ভেঙে পড়া সেই বহুতলের নীচে কারও বেঁচে থাকার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন থাই কর্তৃপক্ষ। তবে ধ্বংসস্তূপের একটি অংশে নাকি এখনও বেঁচে থাকতে পারেন অনেকে। সেখানে প্রাণের চিহ্ন মিলেছে। এই আবহে ব্যাঙ্ককের ডেপুটি গভর্নর তাভিদা কামোলবেজ জানান, উদ্ধারকারী দলকে ধ্বংসস্তূপের সেই অংশে কাজ করার জন্যে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। তাভিদা বলেন, ‘আমরা হাল ছাড়ব না’। উল্লেখ্য, ভূমিকম্পের জেরে ব্যাঙ্ককে এই একটি মাত্র বহুতল ভেঙে পড়েছিল। সেখানে ৭৫ জন এখনও নিখোঁজ আছেন।
এদিকে মায়ানমারের জুন্তার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ২০৫৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনও আরও ২৭০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এই আবহে এক সপ্তাহের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং ‘প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির প্রতি সহানুভূতি’ জানিয়ে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জুন্তার তরফ থেকে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে ১৫৯১টি বাড়ি, ৬৭০টি বৌদ্ধ মঠ, ৬০টি স্কুল, তিনটি সেতু, ২৯০টি প্যাগোডা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই ভূমিকম্পে।
এদিকে ভারতের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর বহু সদস্য মায়ানমারে ধ্বংসস্তূর সরানোর কাজে নিযুক্ত হয়েছেন। এই আবহে সোমবার এনডিআরএফ কর্মীরা অন্তত ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে পাঁচটি দেহ মিলেছে ইউ হ্লা থিয়েন বৌদ্ধ মঠ থেকে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মন্দালয়ে অবস্থিত এই মঠে ১৭০ জন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী চাপা পড়ে গিয়ে থাকতে পারেন। জানা গিয়েছে, সব মিলিয়ে ভারতের এনডিআরএফ কর্মীরা ১৩টি স্থানে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন।