কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন নেতা আলি ইমরান ওরফে ভিক্টরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করলেন স্ত্রী প্রিয়াঞ্জলি নিয়োগী। তাঁকে মারধরের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনেন প্রিয়াঞ্জলি। উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ার প্রাক্তন বিধায়ক আরও অনেক বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত বলেও দাবি করেছেন তাঁর স্ত্রী। উল্লেখ্য, ফরওয়ার্ড ব্লকের টিকিটে ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত চাকুলিয়ার বিধায়ক ছিলেন ভিক্টর। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যান। এবার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজের স্ত্রীর তোলার অভিযোগে বিপাকে পড়েছেন ভিক্টর।
২০২২ সালের অক্টোবরে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন ভিক্টর। এদিকে ভিক্টরের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঞ্জলির ঝামেলার কথা এর আগেও অনেকবারই সামনে এসেছে। বর্তমানে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে। ভিক্টর ও তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও দায়ের করেছেন তিনি। এই আবহে তাঁকে মারধরের ভিডিয়ো দেখিয়ে প্রিয়াঞ্জলি বলেন, ‘এখন যাতে ওকে পার্টি(কংগ্রেস) থেকে বহিস্কার করে, সেটা চাই। আমি রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খার্গেকে মেইল করে জানিয়েছি।’ এরই সঙ্গে তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইমেল করেও এই বিষয়টি তিনি জানিয়েছেন।
প্রিয়াঞ্জলি বলেন, ‘পরিবারের অমতে ১৯ বছরে রেজিস্ট্রি করে আমাদের বিয়ে হয়। ভোট ব্যাঙ্ক হারানোর ভয়ে গর্ভবতী হওয়ার পর নিকাহ করে। আমার নাম পরিবর্তন করে। এই নিয়ে কথা বলতে গেলে আমার পেটে ঘুষি মারে ও গর্ভপাত হয়। পরে ফের বাচ্চা হলেও অত্যাচার এই চলতে থাকে। যৌতুকের জন্যে চাপ দিতে থাকে। আমার দিদার কাছ থেকে প্রায় ৫০-৬০ লাখ টাকার গয়না ও টাকা নেয়। পরে ইমরান ও তাঁর মা অত্যাচার করতে থাকে। মারধর করে। ফিনায়েল খাওয়ানোর চেষ্টা করে। নতুন ফ্ল্যাট কেনার জন্যে ইমরান অর্ধেক টাকা দেয়। বাকি টাকা আমার দিদা দেন। ঋণ হিসাবে দিদার থেকে নেয়। আমার নামে ফ্ল্যাট হওয়া সত্ত্বেও বাড়ি থেকে আমায় বের করে দেয়। আমি থানায় গেলেও অভিযোগ নেয়নি। পরে আবার অত্যাচার করলে হাসপাতাল ভর্তি হতে হয়। তারপর পুলিশে অভিযোগ করি। তাও কিছু হয়নি।’

এরপর তিনি আরও বলেন, ‘কথা অনুযায়ী আমায় ডিভোর্স দেয়নি। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আমি ইমরান আর ওর মায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর করি। পরে আমায় আবার জোর করে মারধর করে MOU সই করে সব থেকে মুক্ত হয়। আমার ফ্ল্যাট, টাকা, গয়না সব নিয়ে নেয়। গতকাল রাতে আমার সন্তানকে আনতে গেলেও আমায় আবার মারধর করে। আমি বাড়ি থাকলে ওর বন্ধুদের পাঠায় হুমকি দিতে ও দেখতে। ইমরানের কালো টাকা রয়েছে। অনেক বেআইনি কাজ করে। প্রমাণ আমার কাছে আছে। আমায় হুমকি দিয়েছে, যদি আমি এগুলো বলি, আমায় খুন করে দেবে। যে নিজের বউকে বাড়িতে অত্যাচার করে, সে সমাজকে কিভাবে বাঁচাবে? আমায় খুনের হুমকি দিচ্ছে। আমায় বাঁচান।’