ফেব্রুয়ারির শুরুতেই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি। তার ফলে, আমেরিকায় ভারতের পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এদিন সকাল থেকেই সরগরম ছিল দেশের সংসদ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে সরব হন কংগ্রেসের সাংসদ রাহুল গান্ধী। বিকেল গড়াতেই ভারত- আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মুখ খোলেন ভারতের বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল।
ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি থেকে ভারত কী পেল? এই প্রশ্ন এই মুহূর্তে তুঙ্গে রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন,’এই চুক্তি কৃষক থেকে শুরু করে মৎস্য পর্যন্ত ১৪০ কোটি ভারতীয় সকলকে সাহায্য করবে।’ তিনি বলেন, তিনি সংসদে বিস্তারিত জানাতে চেয়েছিলেন, ‘কিন্তু আপনি আজ লোকসভায় যে কুৎসিত দৃশ্য তৈরি হয়েছে, তা তা দেখেছেন তো!’ গোয়েল বলেন,’যা ঘটেছে তার জন্য আমি রাহুল গান্ধীর নিন্দা জানাই।’ তবে এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে তিনি বিশদে কিছু না জানালেও, পীযূষ গোয়েল এই চুক্তির উপকারের দিকগুলি তুলে ধরেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলছেন,’ প্রধানমন্ত্রী মোদী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তাঁর বন্ধুত্বকে কাজে লাগিয়ে এই অঞ্চলের (প্রতিবেশী) সমস্ত দেশ, আমরা যে সমস্ত দেশের সাথে প্রতিযোগিতা করি, তাদের মধ্যে সেরা চুক্তিটি অর্জন করেছেন।’ উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ওপর আমেরিকার শুল্কের খাঁড়া ২০ শতাংশ। পাকিস্তানের ওপর এই শুল্ক ১৯ শতাংশ, চিনের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। সেই জায়গায় ভারতের ওপর মার্কিন শুল্ক হল ১৮ শতাংশ। এছাড়াও কানাডার ওপর ৩৫ ও মেক্সিকোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। এছাড়াও ভিয়েৎনাম, শ্রীলঙ্কার ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াস, থাইল্যান্ডের ওপর রয়েছে ১৯ শতাংশ মার্কিন শুল্কের খাঁড়া!

পীযূষ গোয়েল বলছেন,’অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। ভারত ৫০% শুল্কের মুখোমুখি হচ্ছিল, কৃষকরা কষ্ট পাচ্ছিলেন, সামুদ্রিক রপ্তানিকারকরা চিন্তিত ছিলেন। কয়েকদিন আগে পর্যন্ত, বিরোধী নেতারাও আমাদের জিজ্ঞাসা করছিলেন যে চুক্তিটি কখন হবে।’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন,’আমরা কয়েক মাস ধরে এই চুক্তিটি পেতে পারিনি, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর বন্ধুত্বকে কাজে লাগিয়ে এত বড় চুক্তিটি সম্পন্ন করেছেন, যা ভারতকে অত্যন্ত উপকৃত করবে।’ পীযূষ গোয়েল জানান,’প্রধানমন্ত্রী মোদী নিশ্চিত করেছেন যাতে ভারতের সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলি, কৃষি এবং দুগ্ধ , সুরক্ষিত থাকে।’