অবিলম্বে উচ্চমাধ্যমিক স্তর থেকে সেমিস্টার প্রত্যাহারের দাবি উঠল। সেই মর্মে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক সংগঠন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের তরফে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে চিঠি দেওয়া হল। সেইসঙ্গে ওই শিক্ষক সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে, সেমিস্টার প্রথার বিকল্প হিসেবে কীভাবে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা চলবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের (শিক্ষক-শিক্ষিকারা) সঙ্গে শলা-পরামর্শ করা হোক। সেইসঙ্গে অভিভাবক এবং পড়ুয়াদের সঙ্গেও আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে ওই সংগঠনের তরফে। যদিও বিষয়টি নিয়ে সংসদের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
এমনিতে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের তরফে সেই দাবি তোলা হয়েছে এমন একটা সময়, যখন সেমিস্টার প্রথায় প্রথমবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে পড়ার পর্যাপ্ত সময়ই পাননি পড়ুয়ারা। দেরিতে এসেছে বই। সবমিলিয়ে প্রস্তুতির সময় মেলেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
‘অধিক মাত্রায় টিউশন নির্ভর হয়ে পড়ছে পড়ুয়ারা’, মত শিক্ষকদের
সেই আবহে সংসদকে চিঠি দিয়ে কী কারণে সেমিস্টার প্রথা প্রত্যাহার করা উচিত, তার স্বপক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের তরফে। মঞ্চেক রাজ্য সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেছেন, ‘উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে সম্প্রতি প্রবর্তিত সেমিস্টার পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষের সঞ্চার হয়েছে। বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমরা লক্ষ্য করছি যে এই পদ্ধতির ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা ক্রমশ অধিক মাত্রায় টিউশন নির্ভর হয়ে পড়ছে এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত শ্রেণি পাঠে অংশগ্রহণের প্রবণতা হ্রাস পাচ্ছে। চারবার আলাদাভাবে বই কেনা এবং পরীক্ষার ফি দেওয়ার ফলে অভিভাবকদের উপর আর্থিক বোঝা বাড়ছে।’
‘শিক্ষার বেসরকারিকরণের প্রবণতা বাড়বে’
সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘সেমিস্টার-ভিত্তিক স্বল্প সময়ের মধ্যে বিস্তৃত সিলেবাস সম্পূর্ণ করা কার্যত অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। এর ফলে পাঠদানের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের বিষয়ভিত্তিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাস্তরে ভিত্তি দুর্বল হলে ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তারা গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হবে – এ বিষয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এছাড়াও, এই পদ্ধতির ফলে বেসরকারিকরণের প্রবণতা আরও উৎসাহিত হচ্ছে, যা আর্থিভাবে অনগ্রসর পরিবারগুলির ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি তৈরি করছে।’

কী কী দাবি জানানো হয়েছে?
১) মঞ্চের তরফে দাবি করা হয়েছে, উচ্চমাধ্যমিক স্তরে চালু হওয়া সেমিস্টার পদ্ধতি অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক।
২) ওই সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সামগ্রিক ফলাফলের ভিত্তিতে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল নির্ধারণের পূর্ববর্তী পদ্ধতি পুনর্বহাল করা হোক।
৩) মঞ্চের তরফে দাবি করা হয়েছে, সেমিস্টার প্রথা প্রত্যাহারের পাশাপাশি প্রতিটি বিষয়ের সিলেবাস, সাহিত্যের পাঠ্য সংকলন, প্রশ্নপত্র, নম্বর বিভাজন ইত্যাদির দিকেও নজর দিতে হবে।
৪) সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মতামত গ্রহণ করে একটি গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হোক।
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সম্পাদক বলেছেন, ‘আমরা আশা করি, ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থ ও শিক্ষার মান অক্ষুণ্ণ রাখতে বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন (সংসদ সভাপতি)।’