তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবির সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, তিনি আসাদউদ্দিন ওয়াইসির এআইএআইএমের সঙ্গে নির্বাচনী জোট করবেন। তবে এই জোটের কথা এবার অস্বীকার করল অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন। হুয়ামুন কবিরের প্রস্তাবগুলিকে ‘রাজনৈতিকভাবে সন্দেহজনক এবং আদর্শগতভাবে অসঙ্গতিপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছে এআইএমআইএম।
কিছুদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় এক অনুষ্ঠানে হুমায়ুন কবির বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। এই মসজিদকে ঘিরে তুমুল হইচই শুরু হয়েছে গোটা দেশজুড়েই। এরই মাঝে এআইএমআইএমের জাতীয় মুখপাত্র সৈয়দ আসিম ওয়াকার বলেন, কবির বিজেপির প্রবীণ নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত বলে মনে করা হয়। এক বিবৃতিতে ওয়াকার বলেন, ‘প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কবিরকে অধিকারীর রাজনৈতিক যন্ত্রের অংশ বলে মনে হচ্ছে। মুসলিম সম্প্রদায়কে উস্কানি দিয়ে রাজনীতি করায় সমর্থন নেই এআইএমআইএমের। মুসলিম সম্প্রদায় জাতি গঠনে বিশ্বাস করে, তা ভাঙতে নয়।’
দলের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসির প্রসঙ্গ টেনে ওয়াকার বলেন, ‘ওয়াইসির রাজনীতি সাংবিধানিক মূল্যবোধ, শান্তি এবং সামাজিক সম্প্রীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি এমন কারও সাথে জোট করতে পারবেন না যাঁর কর্মকাণ্ড ঐক্যকে হুমকির মুখে ফেলবে, সামাজিক পার্থক্য গভীর করবে বা ধ্বংসের রাজনীতিকে প্রচার করবে। পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা কবিরের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পিছনে রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত। মানুষ পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারছে কার নির্দেশে এবং কোন উদ্দেশ্যে কাজ করছেন কবির।’

এদিকে ওয়াইসির দল নীরবেই বাংলায় সংগঠন বৃদ্ধি করছে। বিশেষ করে বিহার লাগোয়া জেলাগুলিতে। বিহারের সদ্য সমাপ্ত বিধায়নসভা নির্বাচনে বাংলা লাগোয়া সীমাঞ্চল এলাকায় বেশ কয়েকটি আসন পেয়েছে এআইএমআইএম। গত বিহার নির্বাচনেও সেই অঞ্চলে ভালো ফল করেছিল ওয়াইসির দল। পরে যদিও তাঁর অধিকাংশ বিধায়করা দলত্যাগ করেছিলেন। তবে সেই বিহার লাগোয়া দুই দিনাজপুর, মালদায় সংখ্যালঘু এলাকায় এখন থেকেই সংগঠন গোছাতে চেষ্টা করছে এআইএমআইএম। বাংলার আগের নির্বাচনেও মুসলিম ভোট পেতে ওয়াইসি ঝাঁপিয়েছিলেন এই রাজ্যে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস আগের বিধানসভা নির্বাচনে ওয়াইসিকে অঙ্ক মেলাতে দেয়নি। এদিকে হুমায়ুন দাবি করেছিলেন, নিজের দলের সম্মেলনে খোদ ওয়াইসিকে ডাকবেন তিনি। তবে এবার এআইএমআইএমের তরফ থেকে জোটের সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হল।