তেলঙ্গানার রাজধানী হায়দরাবাদে একটি রাস্তার নাম রাখা হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে। এমনই ঘোষণা করলেন তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি। তিনি জানান, হায়দরাবাদে মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে যাওয়া রাস্তার নাম হবে ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ। এছাড়া ভারতের কিংবদন্তি শিল্পপতি প্রয়াত রতন টাটার নামে একটি রাস্তার নামকরণ করা হবে বলেও জানান রেবন্ত। তবে টাটার থেকে ট্রাম্পের নামে রাস্তার নামকরণ নিয়ে চর্চা বেশি হচ্ছে। রেবন্ত জানান, এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি কেন্দ্রীয় সরকারকে। তবে শিগগিরই বিদেশ মন্ত্রণালয় ও মার্কিন দূতাবাসকে চিঠি লিখে এ বিষয়ে অবহিত করা হবে।
এদিকে রাজ্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গুগল এবং গুগল ম্যাপের অবদানকে সম্মান জানাতে হায়দরাবাদের একটি প্রধান রাস্তার নামকরণ করা হবে গুগল স্ট্রিট। এই রাস্তাটি গুগলের আসন্ন ক্যাম্পাসের কাছাকাছি থাকবে। এ ছাড়া আইটি খাতের বড় বড় কোম্পানি উইপ্রো ও মাইক্রোসফটও শহরের ভৌগোলিক কাঠামোতে স্বীকৃতি পাবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শহরে উইপ্রো জংশন এবং মাইক্রোসফট রোড স্থাপন করা হবে।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে ট্রাম্পের কারণে। ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ট্রাম্পের ছবি থেকে কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়েছে। সেই ট্রাম্পের নামে হায়দরাবাদে সড়কের নামকরণ হওয়ায় তাই চর্চা তুঙ্গে। ট্রাম্প প্রায় সময়ই জপ করার মতো একবার করে দাবি করে চলেন, তিনি ৭-৮টা যুদ্ধ থামিয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম হল ভারত-পাক যুদ্ধ। এবং তাতে নাকি তিনি বাণিজ্যকে হাতিয়ার করেছেন। তবে সেই বাণিজ্য চুক্তি আজও সম্পন্ন হল না ভারত-আমেরিকার সঙ্গে। আর এদিকে ট্রাম্পকে সম্মান জানিয়ে তাঁর নামে রাস্তার নামকরণ করার ঘোষণা করলেন কংগ্রেস শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে রেবন্তের এই ঘোষণায় পালটা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ তথা তেলঙ্গনা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি বান্দি সঞ্জয় কুমার। তিনি দাবি করেন, নাম বদল করতে হলে হায়দরাবাদের নাম বদলে ভাগ্যনগর করা হোক। তাঁর কথায়, ‘কংগ্রেস যদি নাম বদল করতে এতই উৎসাহী হয়, তাহলে তারা এমন কিছু নাম বদলাক যার ঐতিহাসিক অর্থ আছে।’

উল্লেখ্য, অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে ট্রাম্প একাধিকবার ভারত-পাকের সংঘর্ষবিরতিতে মধ্যস্থতার কৃতিত্ব নিতে চেয়েছেন। তাঁর দাবি, বাণিজ্য আলোচনাকে হাতিয়ার করে ভারত-পাক সংঘাত থামান তিনি। তবে নয়াদিল্লি বারবার এই দাবি অস্বীকার করে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করার সমঝোতা দ্বিপক্ষীয়ভাবে হয়েছে। পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) ভারতীয় ডিজিএমও-কে ফোন করে হামলা ব্ধের আর্জি জানিয়েছিলেন। এই আবহে ভারত এবং আমেরিকার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল। অন্যদিকে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল পাকিস্তান। তবে ভারত সেই সবে পাত্তা দেয়নি। এই সবের মাঝেই ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝা চাপিয়েছেন ট্রাম্প। মোদীকে একটা সময় ৪ বার ফোন করলেও মোদী কথা বলেননি ট্রাম্পের সঙ্গে। জি৭ সম্মেলনের সময় ফোনে কথোপকথন চলাকালীন ট্রাম্পের সংঘর্ষবিরতি দাবির বিরুদ্ধে সরবও হয়েছিলেন মোদী।