Income Tax Regime Comparison Table। ২.৪ লাখ টাকা বাঁচবে!

Spread the love

পুরনো আয়কর কাঠামোর ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। কিন্তু শনিবার যে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করা হল, তাতে নতুন আয়কর কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন করা হল। সেই পরিস্থিতিতে মোটামুটি সকলেই হিসাব করতে শুরু করে দিয়েছেন যে কোন আয়কর কাঠামোয় বেশি লাভ হবে? নতুন আয়কর কাঠামোয় বেশি টাকা বাঁচবে? নাকি বেশি লাভ হবে পুরনো আয়কর কাঠামোয়? আর সেই বিষয়টি বোঝালেন বিশেষজ্ঞ। কোন আয়কর কাঠামোয় বেশি লাভ হবে, সেটা ব্যাখ্যা করলেন।

পুরনো ও নতুন আয়কর কাঠামোর পার্থক্য

১) যদি কোনও বেতনভোগীর আয় ১২.৭৫ লাখ টাকা হয়, তাহলে নয়া আয়কর কাঠামোয় তাঁকে এক পয়সাও কর দিতে হবে। পুরনো আয়কর কাঠামোয় তাঁকে ১.৮ লাখ টাকা দিতে হত।

২) কারও আবার যদি বার্ষিক আয় ১৫.৭৫ টাকা হয়, তাহলে পুরনো কাঠামোয় তাঁকে আয়কর দিতে হবে ২.৭ লাখ টাকা। যা নয়া কাঠামোয় ১.০৫ লাখ টাকা হবে।

৩) কোনও করদাতার বার্ষিক আয় যদি ২৫.৭৫ টাকা হয়, তাহলে নতুন কাঠামোয় আয়কর বাবদ গুনতে হবে ৩.৩ লাখ টাকা। পুরনো কাঠামোয় ৫.৭ লাখ টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ আয়কর বাবদ ২.৪ লাখ টাকা কম দিতে হবে।পুরনো আয়কর কাঠামোয় কত টাকা কর দিতে হয়?

১) ২.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত: শূন্য।

২) ২,৫০,০০১ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা: ৫ শতাংশ।

৩) ৫,০০,০০১ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা: ২০ শতাংশ।

৪) ১০ লাখ টাকার বেশি: ৩০ শতাংশ।

আয়কর কাঠামোয় কত টাকা কর দিতে হয়?

১) ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত: শূন্য।

২) ৪ লাখ থেকে ৮ লাখ: ৫ শতাংশ।

৩) ৮ লাখ থেকে ১২ লাখ: ১০ শতাংশ।

৪) ১২ লাখ থেকে ১৬ লাখ: ১৫ শতাংশ।

৫) ১৬ লাখ থেকে ২০ লাখ: ২০ শতাংশ।

৬) ২০ লাখ থেকে ২৪ লাখ: ২৫ শতাংশ।

৭) ২৪ লাখ টাকার বেশি: ৩০ শতাংশ।

পুরনো ও নয়া আয়কর কাঠামো, বিশেষজ্ঞদের মত

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, পুরনো ও নতুন আয়কর কাঠামোর মূল পার্থক্য হল যে পুরনো ব্যবস্থায় বিনিয়োগের মাধ্যমে করযোগ্য আয় কমিয়ে ফেলা যায়। যে বিনিয়োগের তালিকায় আছে পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিপিএফ), বিমার প্রিমিয়াম, ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেমের মতো বিষয়। যদিও নয়া আয়কর কাঠামোর আওতায় সেইসব ক্ষেত্রে ছাড় নেই। 

সেই পরিস্থিতিতে এখন যে নয়া আয়কর কাঠামো হল, তাতে আরও বেশি সঞ্চয়ের সুযোগ মিলবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের বক্তব্য, যদি কারও বেতন বেশি হয় এবং হাউস রেন্ট অ্যালোওয়েন্স (এইচআরএ) ও বাড়িভাড়া ক্লেইমের ব্যাপার থাকে, তাহলে তাও পুরনো আয়কর কাঠামো ভালো।

‘লাইভ মিন্ট’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, চার্টাড অ্যাকাউন্টেট চিরাগ চৌহান বলেছেন যে ‘আপনার যদি বার্ষিক আয় ৪০ লাখ টাকা হয় এবং হাউস রেন্ট অ্যালোওয়েন্স ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়, তাহলে পুরনো আয়কর কাঠামো তাও লাভজনক হবে।’

অপর চার্টাড অ্যাকাউন্টেট পরশ গাঙ্গওয়াল বলেছেন, ‘যদি আপনার লাভ ২৫ লাখ টাকা হয়, তাহলে পুরনো কাঠামোর আওতায় থাকলে আয়কর হিসেবে ৪.৪ লাখ টাকা দিতে হবে। নয়া কাঠামোর আওতায় স্রেফ ৩.৩ লাখ টাকা আয়কর দিতে হবে। অর্থাৎ ১.১ লাখ টাকা বাঁচবে। আয়করের হার কম হওয়ার অর্থ হল যে উচ্চ আয়বিশিষ্ট মানুষদের বেশি সঞ্চয় হবে। বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নিন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *