বাজেটে একলপ্তে আয়কর ছাড়ের সীমা বাড়িয়ে ১২ লাখ টাকা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ঘোষণা করেছেন যে নয়া কাঠামোয় ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে আয়কর দিতে হবে না। তারপর থেকে নয়া আয়কর কাঠামোর ভিত্তিতে কর দিতে হবে। আর সেই পরিস্থিতিতে অনেকেই আশঙ্কায় ভুগছিলেন যে কারও আয় ১২ লাখ টাকার থেকে সামান্য বেশি হলেই চড়া হারে সুদ গুনতে হবে। যে আশঙ্কা দূর করল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, ১২ লাখের একটু বেশি আয় হলেই চড়া আয়কর গুনতে হবে না। ‘মার্জিনাল রিলিফ’-র আওতায় মিলবে ছাড়। কীভাবে সেই ছাড় মিলবে? আয় কতটা হলে ছাড় পাবেন? কীভাবে সেটা হিসাব করা হবে? তা দেখে নিন।
কারা আয়করের ক্ষেত্রে সামান্য ছাড় পাবেন?
নয়া আয়কর কাঠামোর ১১৫বিএসি (১এ) ধারার আওতায় সেইসব করদাতারা ‘মার্জিনাল রিলিফ’ পাবেন, যাঁদের বার্ষিক আয় ১২ লাখ টাকার সামান্য বেশি। উদাহরণস্বরূপ ধরা যাক, কারও বার্ষিক আয় হল ১২.১ লাখ টাকা। তাহলে তাঁর আয়কর হবে ৬১,৫০০০ টাকা (৪ লাখ টাকার ৫ শতাংশ, ৪ লাখ টাকার ১০ শতাংশ এবং ১০,০০০ টাকার ১৫ শতাংশ)। কিন্তু ‘মার্জিনাল রিলিফ’-র কারণে আয়কর বাবদ আসলে ১০,০০০ টাকা দিতে হবে।
যে পরিমাণ অর্থের কারণে সেই ১২ লাখ টাকার সীমা পেরিয়ে যাচ্ছে (এক্ষেত্রে ১০,০০০ টাকা), সেটার সঙ্গে আয়করের (‘মার্জিনাল রিলিফ’ ছাড়া) হিসাব করা হবে। আর এক্ষেত্রে ‘মার্জিনাল রিলিফ’ ছাড়া আয়করের অঙ্কটা হচ্ছিল ৬১,৫০০ টাকা। ফলে ‘মার্জিনাল রিলিফ’-র অঙ্কটা হল ৫১,৫০০ টাকা (৬১,৫০০-১০,০০০ টাকা)।
আয় কত টাকা পর্যন্ত হলে ‘মার্জিনাল রিলিফ’-র সুবিধা মিলবে?
যাঁদের আয় মোটামুটি ১২,৭৫,০০০ টাকার কাছাকাছি, তাঁরা ‘মার্জিনাল রিলিফ’-র সুবিধা পাবেন। ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে কোনও আয়কর দিতে হবে না।
নয়া আয়কর কাঠামো – কত হারে আয়কর দিতে হবে?
১) ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত: শূন্য।
২) ৪ লাখ থেকে ৮ লাখ: ৫ শতাংশ।
৩) ৮ লাখ থেকে ১২ লাখ: ১০ শতাংশ।
৪) ১২ লাখ থেকে ১৬ লাখ: ১৫ শতাংশ।
৫) ১৬ লাখ থেকে ২০ লাখ: ২০ শতাংশ।
৬) ২০ লাখ থেকে ২৪ লাখ: ২৫ শতাংশ।
৭) ২৪ লাখ টাকার বেশি: ৩০ শতাংশ।