ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) খসড়া তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুই অর্থনীতি একে অপরকে ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’-এর মর্যাদা দেবে। অর্থ, উভয় পক্ষই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য থাকবে এবং বৈশ্বিক নিয়মের বাইরে কোনও নতুন আমদানি-রফতানি বিধিনিষেধ আরোপ করতে সক্ষম হবে না। অন্তত পাঁচ বছরের জন্য ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন একে অপরকে মোস্ট ফেভারড নেশনের তালিকায় রাখবে।
ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে পণ্যদ্রব্যের মূল্যের উপর ভিত্তি করে ৯৬.৬% পণ্যের উপর শুল্ক পর্যায়ক্রমে কমানো হবে বা তুলে দেওয়া হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার বাজারের ৯৯.৫% ভারতের জন্য খুলে দেবে। বেশিরভাগ পণ্যের শুল্ক তাত্ক্ষণিকভাবে বা সর্বোচ্চ ৭ বছরের মধ্যে শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। ভারত ৯৬ শতাংশ পণ্যের উপর শুল্ক প্রত্যাহার করবে। এই প্রক্রিয়াটি আগামী ১০ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হবে।
এদিকে স্থানীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় চুক্তি থেকে দুধ, দুগ্ধত পণ্য, চাল, চিনি ও মাংসের মতো পণ্যকে বাদ দিয়েছে উভয় পক্ষ। এই চুক্তির ফলে উভয় পক্ষই বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। ভারতীয় রফতানিকারকরা বস্ত্র, চামড়া, রত্ন ও গয়না এবং সামুদ্রিক খাবারের খাতে লাভবান হবেন। কারণ চুক্তি বাস্তবায়িত হতেই ইউরোপের বাজারে এই সব পণ্য বিনা শুল্কে বিক্রি করতে পারবেন ভারতীয় ব্যবসায়িরা। এদিকে ইউরোপীয় গাড়ি প্রস্তুতকারক এবং ওয়াইন উৎপাদকরা ভারতীয় বাজারে নিজেদের পা রাখতে পারবেন। এতবছর ধরে যে চড়া হারে তাদের শুল্ক দিতে হত, এবার আর তা দিতে হবে না। অনুমান করা হচ্ছে যে ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতে ইউরোপীয় রফতানি দ্বিগুণ হবে এবং ইউরোপীয় সংস্থাগুলি বার্ষিক প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয় করবে।

শুল্ক ছাড়াও, বাণিজ্য চুক্তির খসড়ায় উভয় পক্ষই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্য সুরক্ষা এবং উদ্ভিদ স্বাস্থ্য মান মানতে সম্মত হয়েছে। উভয় পক্ষই মৌলিক অধিকার হিসাবে গোপনীয়তা সহ ডিজিটাল ব্যবসায়িক সহযোগিতা আরও গভীর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। তবে উভয় দেশই ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং আন্তঃসীমান্ত ডেটা প্রবাহের অধিকার বজায় রাখবে।