ফের একবার বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানকে তুলোধনা করে ছাড়ল ভারত! এবার প্রেক্ষাপট রাষ্ট্রসংঘ। সেখানে জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে জোরালো তোপ দাগলেন ভারতের প্রতিনিধি এলডিউস ম্যাথ্যু পুন্নুস। পাকিস্তান বারবার জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তুলে সরব হয় দিল্লি। তারই সঙ্গে দিল্লির সাফ বার্তা, কাশ্মীর ভারতেরই অংশ, আর তাইই থাকবে।
রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধির বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পাল্টা বার্তায় ভারতের তরফে পান্নুস বলেন,’ এমন এক সময়ে যখন সদস্য দেশগুলোকে তাদের সংকীর্ণ বিবেচনার বাইরে উঠতে হচ্ছে, তখন পাকিস্তান তাদের বিভেদমূলক এজেন্ডা চালানোর জন্য জাতিসংঘের সমস্ত প্ল্যাটফর্ম ও প্রক্রিয়ার অপব্যবহার অব্যাহত রেখেছে।’ রাষ্ট্রসংঘে ‘রিপোর্ট দ্য সেক্রেটারি জেনারেল অন দ্য ওয়ার্ক অফ দ্য অর্গানাইজেশন’ সংক্রান্ত একটি আলোচনায় ভারত তার অবস্থান স্পষ্ট করে। জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতের দীর্ঘ দিনের অবস্থান ফের স্পষ্ট করে দেয় ভারত। পান্নুস সাফ বলেন,’এই ফোরামও এর ব্যতিক্রম নয় (যেখানে) পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীরের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে অযৌক্তিক উল্লেখ করেছে, যা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
পাকিস্তান জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে জম্মু ও কাশ্মীরের বিষয়টি উত্থাপনের বারবার প্রচেষ্টার পর ভারতের এই প্রত্যাখ্যান আসে। নয়াদিল্লির দাবি, এই প্রচেষ্টা ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
স্পষ্ট কথায় ভারতের তরফে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে বলা হয়েছে,’আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার জাতিসংঘ সনদে অন্তর্ভুক্ত একটি মৌলিক নীতি। তবে, বহুত্ববাদী এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলিতে বিচ্ছিন্নতাকে উৎসাহিত করার জন্য এই অধিকারের অপব্যবহার করা উচিত নয়। অভ্যস্ত হলেও, পাকিস্তান যদি ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং মিথ্যাচারের আশ্রয় না নেয় এবং বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একটি চিত্র তুলে না ধরে, তাহলে তাদের ভালোই হবে।’

এদিকে, গত পর পর তিন রাতে জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্তে ড্রোন ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে। বিষয়টি নজরে আসতেই সতর্কতা অবলম্বন করে নিরাপত্তা বাহিনী।
অন্যদিকে, সদ্য বছরের শুরুতেই ভেনেজুয়েলাকে আক্রমণ করে আমেরিকা। সেদেশের প্রেসিডেন্টকে সস্ত্রীক বন্দি করে ট্রাম্প প্রশাসন। তাঁদের বিচার চলছে আমেরিকায়। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গেও সংঘাত রয়েছে আমেরিকার। ট্রাম্প প্রশাসনের নজরে রয়েছে গ্রিনল্যান্ড। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘে ভারত বলে,’ জাতিসংঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, কারণ এটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। বিশ্ব নাগরিকরা আশা করে যে জাতিসংঘ তিনটি স্তম্ভের প্রতিটিতে কাজ করবে – শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং মানবাধিকার।’