ভারতের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়ে রেখে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তা সত্ত্বেও আমেরিকায় ভারতীয় রফতানি বেড়েছে ২০২৫ সালে। এদিকে শুধু আমেরিকা নয়, চিনেও ভারতীয় পণ্যের রফতানির পরিমাণ বেড়েছে ২০২৫ সালে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ ৬ মাসে আমেরিকায় ভারতীয় রফতানির পরিমাণ ছিল ৬০.০৩ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২৫ সালের শেষ ৬ মাসে আমেরিকার ভারতের রফতানির পরিমাণ ছিল ৬৫.৮৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর পরও আমেরিকায় ভারতীয় রফতানি বেড়েছে ৯.৭৫ শতাংশ।
এদিকে চিনের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের শেষ ৬ মাসে যেখানে রফতানির পরিমাণ ছিল ১০.৪২ বিলিয়ন ডলার, ২০২৫ সালের সেই একই সময়কালে তা বেড়ে হয়েছে ১৪.২৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, গত ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের শেষ ৬ মাসে চিনে ৩৬.৬৮ শতাংশ রফতানি বেড়েছে ভারতের।
প্রসঙ্গত, ট্রাম্প মুখে দাবি করছেন, রাশিয়ার থেকে তেল কেনায় ভারতের ওপর শুল্ক চাপানো হচ্ছে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য বেড়েছে ট্রাম্পের জমানাতেই। এদিকে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে মধ্যস্থতার দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। ভারত সেই দাবি অস্বীকার করে। এরপর থেকেই নিজের মনের মতো গল্প বানিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি নাকি মোদীকে ফোন করে যুদ্ধ বন্ধ করতে বলেছিলেন। এবং যুদ্ধ করলে বাণিজ্য চুক্তি না করা নিয়ে মোদীকে বার্তা দেওয়ার পর নাকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নাকি বলেছিলেন, ‘না না বাণিজ্য চুক্তি তো করতে হবে’। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ফোন করে করেছিলাম। আমি দুই দেশকেই বলেছিলাম যে আমি প্রতিটি দেশের উপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করব… যার মানে তারা কখনও আর আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না। আমি শুল্কের কথা বলে শুধু ভালো ভাষায় বোঝাতে চেয়েছিলাম, আমরা আপনার সাথে ব্যবসা করতে চাই না।’

ট্রাম্প একাধিকবার ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতিতে মধ্যস্থতার কৃতিত্ব নিতে চেয়েছেন। তাঁর দাবি, বাণিজ্য আলোচনাকে হাতিয়ার করে ভারত-পাক সংঘাত থামান তিনি। তবে নয়াদিল্লি বারবার এই দাবি অস্বীকার করে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করার সংঝোতা দ্বিপক্ষীয়ভাবে হয়েছে। পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) ভারতীয় ডিজিএমও-কে ফোন করে হামলা ব্ধের আর্জি জানিয়েছিলেন। এই আবহে ভারত এবং আমেরিকার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল। অন্যদিকে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল পাকিস্তান। তবে ভারত সেই সবে পাত্তা দেয়নি। এই সবের মাঝেই ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝা চাপিয়েছেন ট্রাম্প। মোদীকে একটা সময় ৪ বার ফোন করলেও মোদী কথা বলেননি ট্রাম্পের সঙ্গে। জি৭ সম্মেলনের সময় ফোনে কথোপকথন চলাকালীন ট্রাম্পের সংঘর্ষবিরতি দাবির বিরুদ্ধে সরবও হয়েছিলেন মোদী। তবে ট্রাম্প প্রায় প্রতিদিনই যপ করার মতো একবার করে দাবি করে চলেন, তিনি ৭-৮টা যুদ্ধ থামিয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম হল ভারত-পাক যুদ্ধ। এবং তাতে নাকি তিনি বাণিজ্যকে হাতিয়ার করেছেন। তবে সেই বাণিজ্য চুক্তি আজও সম্পন্ন হল না ভারত-আমেরিকার সঙ্গে।