রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ শেষে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে গ্রুপের ম্যাচে বাংলাদেশকে ১৮ রানে হারিয়ে দিলেন সূর্যবংশীরা। এই ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আলাদা করে নজর কেড়েছে বাঙালি অভিজ্ঞান কুন্ডু। অন্যদিকে, বল হাতে বিহান মালহোত্রা ভারতকে এগিয়ে দেন জয়ের দিকে। তবে বাংলাদেশের পক্ষে থাকা ম্যাচ এদিন চাপ সামলে নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নিতে সমর্থ হয় আয়ুষ মাহত্রের টিম। নাটকীয় পর পর ওভার শেষে, এই বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে শেষ হাসি এদিন হাসে ভারত।
এদিনের ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই ২২ গজের বাইরের বিষয় শিরোনাম কাড়তে থাকে। উঠে আসে হ্যান্ডশেক বিতর্ক। এদিকে, ব্যাট করতে নেমে মাঝের ওভারে পর পর উইকেট খুইয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। তবে ব্যাটে সাবলীল মেজাজে ২২ গজে দাপট দেখান বৈভব। ছয়, চারের শট-খচিত তাঁর ইনিংস হঠাৎই থেমে যায় ৭২ রানে। তবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যাটিং এ চাপে পড়ে যাওয়া ভারতীয় ইনিংসকে টেনে তোলেন বাঙালি অভিজ্ঞান কুন্ডু। তাঁর দাঁতে দাঁত চিপে শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ের উদ্যমের হাত ধরে অভিজ্ঞানের ব্যাট থেকে আসে ৮০। গত ম্যাচের পর এই ম্যাচেও অভিজ্ঞান পার করে যান অর্ধশতরান। তাঁর ও কণিষ্কের জুটি ভারতকে ২০০ পার করে দেয়। এরপর অভিজ্ঞান আউট হতেই দীপেশ হাল ধরার চেষ্টা করেন। ভারতের স্কোরবোর্ডে শেষ পর্যন্ত থাকে ২৩৮ রান।
এরপর নাটকীয় দ্বিতীয় ইনিংস! ২৩৯ তাড়া করতে নেমে ক্যাপ্টেন আবরার রান না পেলেও, রিফাত বেগের সঙ্গে জুটি বাঁধেন বাংলাদেশের অধিনায়ক আজিজুল হাকিম। বাংলাদেশের ঝুলিতে আসতে থাকে রান। এরপর বৃষ্টি বিঘ্ন ঘটায় ম্যাচে। ময়দানে সক্রিয় হয় ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতি! ১৭.২ ওভারে ৯৮ রানে ২ উইকেটে থাকা বাংলাদেশকে এরপর ২৯ ওভারে ১৬৫ রানের টার্গেট দেওয়া হয়। বৃষ্টির আগে পর্যন্তও বাংলাদেশ ছিল ৯৮ রানে ২ উইকেটে। তবে বৃষ্টির পর খেলা ঘুরতে থাকে কার্যত। চাপ কাটিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন আয়ুষরা। ২২ রানের মধ্যে ৭ উইকেট রকেট গতিতে পড়তে থাকে বাংলাদেশের। বিহান বল করেন ৪ ওভার। আর তাতেই মাত! ১৪ রান দিয়ে তোলেন ৪ উইকেট। খিলান প্যাটেলের ঝুলিতে ২ উইকেট। দুর্দান্ত ক্যাচে মন জয় করে নেন বৈভব। শেষপর্যন্ত বাংলাদেশের ভরসা ছিলেন হাকিম, তবে তাঁর উইকেট ধরে তোলেন খিলান। ম্যাচ ১৮ রানে জিতে নেয় আয়ুষের ভারত।
