বিগত বেশ কয়েকদিন ধরে পাকিস্তানের তরফ থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্তে ড্রোন পাঠানো হচ্ছে। এই সব ড্রোনের মাধ্যমে ভারতীয় দিকের ওপর নজরদারি চালানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান। এরই সঙ্গে অস্ত্র এবং আরও সরঞ্জাম পাচারেরও চেষ্টা করছে তারা। এই পরিস্থিতিতে সীমান্তে সদা সজাগ রয়েছে ভারতীয় সেনা এবং অন্যান্য নিরাপত্তারক্ষীরা। এরই মাঝে জানা গিয়েছে, ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ ফের জম্মু ও কাশ্মীরের ৩ জায়গায় আকাশে দেখা গেল পাক ড্রোন।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্বায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর একটি পাকিস্তানি ড্রোন দেখা গিয়েছিল। এদিকে রামগড় সেক্টরেও একটি পাক ড্রোনকে আকাশে উড়তে দেখা গিয়েছিল। এর কিছু পড়ে জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ এলাকায় আরও একটি পাকিস্তানি ড্রোন নজরে পড়েছিল ভারতীয় সেনার। এই সব ক্ষেত্রে গুলি চালানো হয়েছিল ড্রোনগুলো লক্ষ্য করে। এর ফলে এই ড্রোনগুলি কোনও অস্ত্র ভারতের ভূখণ্ডে ফেলে যেতে সক্ষম হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ভারতীয় সেনার প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী পাকিস্তানকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছিলেন ড্রোন অনুপ্রবেশ নিয়ে। এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি রাজৌরির কেরি সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে আকাশে পাকিস্তনি ড্রোন দেখা গিয়েছিল। দেখামাত্রই সেই ড্রোন লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল সেনা। তার আগে গত ১১ জানুয়ারির সন্ধ্যায় জম্মুর আকাশে পাঁচটি ড্রোন উড়তে দেখা গিয়েছিল। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি পাকিস্তানের একটি ড্রোনে করে দু’টি পিস্তল, তিনটি কার্তুজ, ১৬টি বুলেট, একটি গ্রেনেড ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেলা হয়েছিল।

পাকিস্তানের তরফ থেকে ধারাবাহিকভাবে এই ড্রোন উড়ে আসার বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় সেনা প্রধান সম্প্রতি বলেছিলেন, ‘ওই ড্রোনগুলি প্রতিরক্ষামূলকভাবে পাঠানো হচ্ছে বলে মনে হয় আমার। তারা মনে হয় নজর রাখতে চাইছে যে এভাবে ড্রোন পাঠালে আমরা কোনও পদক্ষেপ করি কি না। এটাও হতে পারে যে, ওরা দেখতে চাইছিল ভারতীয় বাহিনীতে কোনও ফাঁক আছে কি না। ওরা সন্ত্রাসবাদী পাঠাতে চাইছে। পাকিস্তানের সেনর সঙ্গে এই নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, এই সব আমরা মানব না। এই ড্রোন পাঠানোর বিষয়টি তাদের বন্ধ করতে বলা হয়েছে।’