এটা যেন মহম্মদ সিরাজের জন্য এক আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। যখন তিনি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) ও গুজরাট টাইটান্সের (জিটি) আইপিএল ২০২৫ ম্যাচে প্রথম ওভার বল করতে এসেছিলেন তখন আবেগে ভেসে গিয়েছিলেন সিরাজ। এত বছর ধরে তিনি চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের গর্জনমুখর দর্শকদের সমর্থন পেয়েছেন এবং মাঠের ভিতরে বিরাট কোহলির অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। কিন্তু ২ এপ্রিল (বুধবার) সে পরিস্থিতি পাল্টে গিয়েছিল। এবার তিনি শুধু চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের নিবেদিতপ্রাণ ও কখনও কখনও ভীতিকর দর্শকদেরই সামলাচ্ছিলেন না, বরং বিরাট কোহলির(Virat Kohli) বিরুদ্ধেও খেলছিলেন।
মহম্মদ সিরাজ পূর্ণ উদ্যমে দৌড়ে এসে হঠাৎ মাঝপথে থেমে যান। ফাস্ট বোলারদের জন্য এটি খুবই সাধারণ ব্যাপার, অনেক সময় রান-আপ মিস করে তারা বল করা থেকে বিরত থাকেন। তবে এই ম্যাচের আবেগপূর্ণ মুহূর্ত ও সিরাজের অনুভূতির কারণে ইন্টারনেটে গুঞ্জন শুরু হয়ে যায় যে, তিনি প্রথম বলটি কোহলিকে করতে পারছিলেন না কারণ তিনি বেঙ্গালুরুতে আরসিবির বিরুদ্ধে খেলছিলেন। ম্যাচের পর সিরাজ নিজেও এই প্রসঙ্গটি পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নেন।
ম্যাচের পরে মহম্মদ সিরাজ বলেন, ‘এটা আবেগপ্রবণ ছিল কারণ আমি এখানে (আরসিবির হয়ে) সাত বছর খেলেছি। কিছুটা নার্ভাসনেস এবং আবেগ কাজ করছিল, তবে যখন হাতে বল পেলাম, তখন আমি পুরোপুরি মনোযোগী ছিলাম।’ তবে একবার ছন্দ পেয়ে যাওয়ার পর সিরাজের মধ্যে কোনও সংকোচের ছাপ দেখা যায়নি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য ভারতীয় দলে না থাকা সিরাজ যেন জাতীয় নির্বাচক ও আরসিবি ম্যানেজমেন্টের সামনে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। এই ম্যাচে তিনি মাত্র ১৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করে নেন।
গত মরশুমের পর আরসিবি সিরাজকে ছেড়ে দেয়, এবং গুজরাট তাকে নভেম্বরের নিলামে দলে নেয়। তিন ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই তার দাম যথার্থ প্রমাণ করছেন মহম্মদ সিরাজ এবং তার বলের গতি ও নিখুঁত লাইন-লেংথ নজর কাড়ছে।
ম্যাচের প্রথম ওভারেই তিনি উইকেট পেতে পারতেন, যদি জোস বাটলার ফিল সল্টের একটি সহজ ক্যাচ না ফেলে দিতেন। তবে এই হতাশা সিরাজকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তিনি পরের ওভারেই দেবদূত পাডিক্কালকে বোল্ড করেন। পাওয়ারপ্লের তৃতীয় ওভারে, বিশাল ছক্কা খাওয়ার পরও, তিনি ফিরে এসে পরের বলেই আরসিবির কিপারের অফ স্টাম্প উপড়ে ফেলেন। পরে ম্যাচের আরসিবির সর্বোচ্চ স্কোরার লিয়াম লিভিংস্টোনকে (৫৪ রান) আউট করেন।
সিরাজ গুজরাট টাইটান্সের প্রধান কোচ আশিষ নেহরার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। আসলে আশিষ নেহরা তাঁকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছেন। নেহরাকে নিয়ে সিরাজ বলেন, ‘আমি নিয়মিত ম্যাচ খেলছিলাম, তাই আমার ভুলগুলো উপলব্ধি করতে পারছিলাম না। বিরতিতে আমি আমার বোলিং ও ফিটনেসের উপর কাজ করেছি। যখন জিটিতে যোগ দিলাম, তখন আশু ভাইয়ের (আশিষ নেহরা) সঙ্গে কথা বললাম, এবং এখন বলটা ভালোভাবে হাতে আসছে। তিনি বলেছিলেন, ‘নিজেকে উপভোগ করো এবং যা ইচ্ছা তাই করো।’
কোচ নেহরার পাশাপাশি সিরাজের জন্য জিটির অভিজ্ঞ বোলারদের সংস্পর্শও কাজে আসছে। তিনি নিয়মিত ইশান্ত শর্মা ও কাগিসো রাবাদার সঙ্গে আলোচনা করেন। মহম্মদ সিরাজ বলেন, ‘আমি ওদের (রাবাদা, ইশান্ত ও অন্য বোলিং পার্টনারদের) সঙ্গে কথা বলি এবং ফিডব্যাক নিই, যা সত্যিই সহায়ক। একজন বোলার হিসেবে আত্মবিশ্বাস থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি সেটা না থাকে, তবে যখন মার খাও, তখন ঘাবড়ে যাও। আমার বিশ্বাস আছে যে, আমি ভালো পারফর্ম করতে পারবো, যেখানেই খেলি না কেন। এটাই আমার মানসিকতা।’