জেনেভায় আলোচনার টেবিলে মুখোমুখি আমেরিকা ও ইরান। সেই বৈঠকে বেশ কিছু ইস্যুতে একমত হচ্ছে দুই পক্ষ। তবে এর মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানকে উস্কানি দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। জানা গেছে যে গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের দিকে ৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে এই বিমানগুলি একটি বড় অপারেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন সামরিক বহরের অগ্রগতির বিষয়ে অ্যাক্সিওস এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে আকাশ ও সমুদ্রে তাদের সক্ষমতা জোরদার করতে ব্যস্ত। ইন্ডিয়া টুডে’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাধীন ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা এবং মিলিটারি এভিয়েশন মনিটরিংয়ে বেশ কয়েকটি এফ-২২, এফ-৩৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে ওই এলাকার দিকে যেতে দেখা গেছে। এরই সঙ্গে বেশ কয়েকটি জ্বালানী ভরানোর ট্যাঙ্কার বিমানও দেখা গেছে।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, মধ্য আটলান্টিকে রয়েছে এই রণতরী। এবং সেটি দ্রুত এগোচ্ছে ইরানের দিকে। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস মাহান, ইউএসএস বেইনব্রিজ এবং ইউএসএস উইনস্টন চার্চিলও এই যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যাচ্ছে। এর আগে এই ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এর আগে ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালাতে গিয়েছিল। তখন থেকেই সেটি সেখানে রয়েছে। এদিকে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কাছে উপস্থিত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের মার্কিন হামলার আশঙ্কা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

এর আগে ইরানের একটি ড্রোন ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের দিকে ধেয়ে গিয়েছিল। সেই সময় ইরানি ড্রোনটিকে ধ্বংস করেছিল আমেরিকা। আবার মার্কিন পতাকাবাহী তেলের ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালীর কাছে ঘিরে ফেলেছিল ইরান। সেই ট্যাঙ্কারকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় মার্কিন রণতরী। এদিকে সম্প্রতি ভারত আবার মার্কিন নিষিদ্ধ তিনটি ইরানি তেলের ট্যাঙ্কার আটক করেছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। যদিও ইরানি রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থা দাবি করেছে, এই ট্যাঙ্কারগুলি তাদের সঙ্গে যুক্ত নয়। এরই মাঝে পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা একযোগে দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করায় পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।