কয়েকদিন আগেই ওড়িশায় এক ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন বাংলার এক যাত্রী। এবার ফের বাংলার পড়শি এক রাজ্যে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা ঘটল। রিপোর্ট অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জে এই ট্রেন দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দুটি মালবাহী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর আগুন লেগে যায়। এ ঘটনায় ট্রেনের লোকো পাইলটসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন সিআইএসএফ জওয়ান জখম হয়েছেন। এদিকে এই দুর্ঘটনায় ভারতীয় রেলের কোনও যোগ নেই বলে বিবৃতি জারি করা হয়েছে। যেখানে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটি এনটিপিসির প্রাইভেট লাইন বলে জানানো হয়েছে।
সাহেবগঞ্জের বারহাইতে এনটিপিসি গেটের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাটি ঘটে আজ ভোররাত সাড়ে তিনটে নাগাদ। জানা গিয়েছে, একটি মালবাহী ট্রেন লাইনের উপর দাঁড়িয়ে ছিল। তখন তীব্র গতিতে আসা অন্য একটি মালবাহী ট্রেন সেটিকে ধাক্কা মারে। সঙ্গে সঙ্গে ইঞ্জিন ও কয়লা বোঝাই বগিতে আগুন ধরে যায়। রিপোর্ট অনুযায়ী, সাহেবগঞ্জ জেলার বারহাইত থানা এলাকার কাছে ফারাক্কা-লালমাটিয়া এমজিআর রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, খালি পণ্যবাহী ট্রেনটি বারহাইত এমটি-তে অবস্থান করছিল। তখন লালমাটিয়া থেকে আসা একটি কয়লা বোঝাই থ্রু-পাস পণ্যবাহী ট্রেনটি সেটিতে ধাক্কা মারে। ভোর সাড়ে ৩টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিকে এনটিপিসির তরফ থেকে পূর্ব রেলের মালদা ডিভিশনের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়। এই আবহে সাহেবগঞ্জ থেকে একটি ক্রেনের বন্দোবস্ত করে দেওয়া হয়।
ফায়ার ব্রিগেডের কর্মীরা জানিয়েছেন যে ইঞ্জিনটিতে সাতজন ছিলেন, তাঁদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন এবং চারজন আহত হয়েছেন। একজন শ্রমিক ইঞ্জিনে আটকা পড়েছেন তাঁকে বের করার চেষ্টা চলছে। সবাইকে বারহাইত সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যেখানে আহতদের চিকিৎসা চলছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরে আরও একজনের মৃত্যু হয়। এই আবহে এখনও পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৩।
এদিকে ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে রেল প্রশাসন। বারহাইত থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছে তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত। উল্লেখ্য, এর আগেও এনটিপিসির এই রেল ট্র্যাকে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সম্প্রতি কিছু অপরাধী একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রেলপথ উড়িয়ে দিয়েছিল। যার জেরে একটি কয়লা বোঝাই ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে।