Kartik Maharaj on WB Assembly Election। বিধানসভা ভোটের আগে বড় বার্তা কার্তিক মহারাজের

Spread the love

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময়। আর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই কার্তিক মহারাজ কার্যত বিজেপিকে সমর্থনের কথা বলে দিলেন। বেলডাঙা ভারত সেবাশ্রমের সন্ন্যাসীর কথায়, ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প সব জেলে। এবার ধর্মের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। তাই বাংলার মানুষ চিন্তাভাবনা করবে। রাজ্যে পরিবর্তন দরকার। যে দল হিন্দুদের কথা বলবে তাদেরই সর্মথন করব।’

এদিকে কার্তিক মহারাজের এহেন মন্তব্যে পালটা তোপ দেগেছেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘আমি ওঁকে সরাসরি সাধুর বেশ ছেড়ে বিজেপিতে চলে যান। এখন বিজেপির রাজ্য সভাপতি বাছা নিয়ে টানাপড়েন চলছে। এত ঝামেলা না করে সাধুর বেশ ছেড়ে উনি পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি হয়ে সম্মুখ-সমরে লড়াই করুক।’ এর আগে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগ করেছিলেন। নির্বাচনের সময় তৃণমূলের বিরুদ্ধে কথা বলার অভিযোগ করে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের কার্তিক মহারাজকে বিঁধেছিলেন মমতা। বলেছিলেন, ‘এলাকায় এলাকায় গিয়ে ধর্মের নামে বিজেপির প্রচার করেন? আমি বলছি, আপনি করুন। কিন্তু বিজেপির চিহ্নটা বুকে লাগিয়ে করুন। ধর্মের নামে কেন, লুকিয়ে লুকিয়ে কেন?’ এদিকে সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীকে আইনি নোটিশ ধরিয়েছিলেন কার্তিক মহারাজ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ মে রামকৃষ্ণ মিশন এবং ভারত সেবাশ্রমের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এই দুই সাধু সঙ্ঘের কেউ কেউ ‘সরাসরি রাজনীতি’ করছেন। তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘সব সাধু এক হন না। সব স্বজন সমান হয় না। আমাদের মধ্যেও কি আমরা সবা‌ই সমান? এই যে বহরমপুরের একজন মহারাজ আছেন। আমি শুনেছি অনেক দিন ধরে… কার্তিক মহারাজ। ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘকে আমি খুব শ্রদ্ধা করতাম। আমার শ্রদ্ধার তালিকায় তারা দীর্ঘদিন ধরেই আছেন। কিন্তু যে লোকটা বলে, তৃণমূল কংগ্রেসের এজেন্ট বসতে দেব না… সেই লোকটাকে আমি সাধু বলে মনে করি না। তার কারণ, সে সরাসরি রাজনীতি করে দেশটার সর্বনাশ করছে।’

এরপর মমতা আরও বলেছিলেন, ‘কে কে এই সব করছে, আমি তাদের চিহ্নিত করছি। আমি রামকৃষ্ণ মিশকে কোন সাহায্যটা করিনি। সিপিএম যখন খাবার বন্ধ করে দিয়েছিল, তখন আমি সমর্থন করেছিলাম আপনাদের। সিপিএম কিন্তু তখন আপনাদের কাজ করতে দেয়নি। আর আসানসোলে একটি রামকৃষ্ণ মিশন আছে… দিল্লি থেকে নির্দেশ আসে। বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য বলা হয়। কেন সাধুরা এই কাজ করবেন? রামকৃষ্ণ মিশনকে সবাই সম্মান করে। ওদের যারা মেম্বার হয়, দীক্ষা নেয়, তারা আছে। তাদের আমি ভালবাসতে পারি। আমি দীক্ষা নিতে পারি। কিন্তু রামকৃষ্ণ মিশন ভোট দেয় না কোনও দিনও। এটা আমি জানি। তা হলে আমি অন্যকে কেন ভোট দিতে বলব? মনে রাখবেন, স্বামী বিবেকানন্দের বাড়িটাই থাকত না, আপনাদের এই মেয়েটা যদি না থাকত।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *