Kolkata Metro Orange Line Update। চিংড়িঘাটা জটে অরেঞ্জ লাইনের ডেডলাইন পিছোল আরও ১ বছর

Spread the love

চিংড়িঘাটায় জটের কারণে মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের ‘ডেডলাইন’ আরও এক বছর পিছিয়ে গেল। কিছুটা হতাশার সুরেই মেট্রো রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশু শেখর মিশ্র জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের মধ্যে অরেঞ্জ লাইনের (নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর মেট্রো করিডর) কাজ শেষ করার যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল, সেটা পিছিয়ে ২০২৮ সাল করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘আশা করছি যে ২০২৮ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে অরেঞ্জ লাইন সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। (তবে সেটা হবে), যদি এখনই ট্র্যাফিক ব্লকের (যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ) অনুমতি দেওয়া হয়।’

মাত্র ৩৬৬ মিটার অংশ জুড়তে হবে…মাত্র!

আর চিংড়িঘাটায় সেই ট্র্যাফিক ব্লকের ছাড়পত্র দেওয়া নিয়ে দেড় বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার টালবাহানা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আপাতত অরেঞ্জ লাইনে নিউ গড়িয়া থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত মেট্রো চলছে। সেটিকে আরও এগিয়ে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত নিয়ে যেতে তৈরি মেট্রো কর্তৃপক্ষ। সেই লক্ষ্য আর বেলেঘাটার সঙ্গে সল্টলেক সেক্টর ফাইভকে সংযুক্ত করার জন্য চিংড়িঘাটায় ভায়াডাক্টের মাত্র ৩৬৬ মিটারের কাজ বাকি আছে।

হাইকোর্টের নির্দেশ আছে, রাজ্য এবার নড়েচড়ে উঠবে?

কিন্তু সেই কাজের জন্য যে ট্র্যাফিক ব্লকের দরকার অরেঞ্জ লাইনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্সি রেল বিকাশ নিগম লিমিটেডের (আরভিএনএল), সেটাই পাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকার টালবাহানা করে চলেছে। সেই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় মেট্রো কর্তৃপক্ষ। গত ২৩ ডিসেম্বর হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যাতে চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজ শেষ হয়ে যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে রাজ্য সরকারকে। দুটি সপ্তাহান্তে ছয়দিন রাতে ট্র্যাফিক ব্লক করতে হবে।

মেট্রো চালু হয়ে গেলে কমবে যানজট

সেইসঙ্গে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ৬ জানুয়ারির মধ্যে ঠিক করে ফেলতে হবে যে কবে ট্র্যাফিক ব্লক হবে। যদিও মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের তরফে তাদের কিছু জানানো হয়নি। সেই রেশ ধরে বাজেট-পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত উষ্মাপ্রকাশ করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।

তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজ্যের গড়িমসি ও অসহযোগিতার কারণেই সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত যেতে পারছে না মেট্রোর অরেঞ্জ লাইন। যে অংশ জুড়ে গেলে কলকাতার গণপরিবহণ ব্যবস্থা আমূল পালটে যাবে। কমবে রাস্তার যানজটও।

রেলমন্ত্রীর কথায়, ‘হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার অনুমতি দিচ্ছে না বিকল্প পথে যান চলাচলের জন্য একটি বাইপাস রাস্তাও তৈরি করে দিয়েছে আরভিএনএল। তারপরও এখানেই দেড় বছর ধরে থমকে আছে প্রকল্প।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *