বন্যপ্রাণ রক্ষায় কলকাতা-বারাণসী এক্সপ্রেসওয়েতে এলিভেটেড করিডর তৈরি করা হচ্ছে। ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার (এনএইচএআই) সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম বর্তমানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার বনাঞ্চলের মধ্যে দিয়ে কলকাতা-বারাণসী এক্সপ্রেসওয়ের যে অংশ যাবে, সেখানে মোট ১০ কিলোমিটারের এলিভেটেড করিডর তৈরি করা হবে। সেই এলিভেটেড করিডর তৈরি করার ফলে গাড়ির গতি কমাতে হবে না। গাড়ি নিজস্ব গতিতেই এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ছুটতে পারবে। বন্যপ্রাণীরা নিজেদের ছন্দে চলাচল করতে পারবে। বিপন্ন হবে না বন্যপ্রাণীদের জীবন।
৩০ কিমির এলিভেটেড করিডরের তৈরির পরিকল্পনা ছিল
প্রাথমিকভাবে অবশ্য পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার বনাঞ্চলে মোট ৩০ কিমি অংশে এলিভেটেড করিডর তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সূত্র উদ্ধৃত করে ওই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বন্যপ্রাণীদের জীবন রক্ষায় যেহেতু সেই এলিভেটেড করিডর তৈরি করা হবে, সেজন্য উত্তরাখণ্ড থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসেছিল। ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার পরে জানান যে ১০ কিমি অংশে এলিভেটেড করিডর তৈরি করলেই হবে। সেইমতো ওই অংশে এলিভেটেড করিডর (অ্যানিম্যাল করিডর অংশ নীচে থাকবে, উপর দিয়ে গাড়ি ছুটবে) তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রায় ২৩ মিটারের চওড়া রাস্তা হচ্ছে
এক আধিকারিককে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কলকাতা-বারাণসী এক্সপ্রেসওয়েতে মোট ছ’টি লেন থাকবে। ফলে প্রায় ২৩ মিটার চওড়া হবে রাস্তা। ফলে রাস্তার একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যেতে বন্যপ্রাণীদের অনেকটাই সময় লাগবে। সেই গাড়ি চলাচল ব্যাহত হবে। তাছাড়াও প্রাণের ঝুঁকিও থাকবে না বন্যপ্রাণীদের। ফলে সবদিক থেকেই লাভ হবে বলে জানিয়েছেন ওই আধিকারিক।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে কলকাতা-বারাণসী এক্সপ্রেসওয়ে
এমনিতে কলকাতা-বারাণসী এক্সপ্রেসওয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং উত্তরপ্রদেশ হয়ে এগিয়ে যাবে সেই এক্সপ্রেসওয়ে। যে রাস্তার কারণে কলকাতা থেকে বারাণসীর মধ্যে যাতায়াতের সময় কমে যাবে একধাক্কায়। আপাতত সড়কপথে কলকাতা থেকে বারাণসী পৌঁছাতে মোটামুটি ১৩-১৫ ঘণ্টা লেগে যায়। কলকাতা-বারাণসী এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি হয়ে গেলে সেই সময়টা কমে আট-নয় ঘণ্টায় নেমে আসবে।