বিরোধীদের যাবতীয় কৌশলকে দুরমুশ করে মহারাষ্ট্রে বিজেপি ও শিবসেনার(একনাথ শিন্ডের ক্যাম্প) জোট, দাপটে এগিয়ে চলেছে। মায়ানগরীর পুরভোটে অর্থাৎ বিএমসির ভোটে ইতিমধ্যেই বিজেপি জোট ১১৪ অঙ্কের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছুঁয়ে ফেলেছে। ইতিমধ্যেই এই জয় ঘিরে মহারাষ্ট্রের এনডিএ জোটকে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদীও। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানান,’ ধন্যবাদ, মহারাষ্ট্র! রাজ্যের উৎসাহী জনগণ জনকল্যাণ ও সুশাসনের এনডিএ-র এজেন্ডাকে আশীর্বাদ করেছেন! বিভিন্ন পুর কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফল দেখায় যে এনডিএ এবং মহারাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে।’ এদিকে, এরই মাঝে এই ভোটে নজর কেড়েছে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির এআইএমআইএম।
মহারাষ্ট্রে পুরভোটের সমীকরণ জানান দিচ্ছে, শিবসেনার ঠাকরে ভাইরা একজোট হলেও, তাঁদের ছাপিয়ে এগিয়ে গিয়েছে বিজেপির জোট। অন্যদিকে, ফড়নবীশ, একনাথ শিন্ডের হাত ছেড়ে মহাযুতি জোট ছেড়ে অজিত পাওয়ার তাঁর কাকা শরদের সঙ্গে এই ভোটে হাত মেলান। সেই পাওয়ার পরিবারের এনসিপিও মহারাষ্ট্রের পুরভোটে ব্যাকফুটে। এরই মাঝে মুম্বই, নাগপুর, চিঞ্চওয়াড়া, পুনের মতো জায়গা থেকে এগিয়ে গিয়েছে বিজেপি। কংগ্রেসকে এই ভোটে কার্যত ধরাশায়ী করে দিয়েছে পদ্ম ক্যাম্প। রুখে গিয়েছে উদ্ধব ঠাকরেদের শিবসেনাও।
এদিকে, এই বিপুল জয়ের পর পর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ বলেন,’রেকর্ড জনমত জনগণের উন্নয়ন এবং সততার আকাঙ্ক্ষা প্রদর্শন করে।’ একইসঙ্গে তাঁর সাফ বার্তা,’হিন্দুত্ব সর্বদাই আমাদের আত্মা, আমাদের হিন্দুত্বকে উন্নয়ন থেকে আলাদা করা যায় না।’

এদিকে, মহারাষ্ট্রের একের পর এক জায়গা থেকে যখন বিজেপি জোটের জয়ের আবির উড়ছে, তখন এই পুরভোটে একাধিক জায়গা থেকে এগিয়ে থেকে, আলাদা করে নজড় কাড়ল আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এআইএমআইএম। সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত টিভি রিপোর্ট অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের ৯৪ টি কেন্দ্রে এগিয়ে ছিল এআইএমএএম। মহারাষ্ট্রের এই পুরভোটে ওয়েইসির পার্টি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা থেকে দাপট ধরে রাখে বলে খবর। তথ্য বলছে, ওয়েইসির নেতৃত্বাধীন দলটি সম্ভাজিনগরে ৩৩টি, অমরাবতীতে ১৫টি, মালেগাঁওয়ে ২০টি, নান্দেদ ওয়াঘালায় ১৪টি, ধুলে ১০টি, জালনায় ২টি আসন নিয়ে এগিয়ে রয়েছে। তথ্য বলছে, এআইএমআইএম, কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী সমর্থন-ভিত্তিক জায়গাতে তাৎপর্যবাহী হয়ে উঠেছে এই ভোটে। উল্লেখ্য, বাণিজ্যনগরী মুম্বইতে পুরভোটে কংগ্রেসেের ধরাশায়ী হওয়ার ঘটনা, তার শহুরে জনসমর্থনে ভাঙনকে ইঙ্গিত করছে বলে অনেকের মত।
এদিকে, মহারাষ্ট্রের পৌরসভা নির্বাচনে জয়ী এআইএমআইএম-এর অন্যতম প্রধান প্রার্থী হলেন শম্ভাজি নগরের ইমতিয়াজ জলিল। তার পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে জলিল বলেন, ‘বিজেপি যদি শহরের মানুষের জন্য আরও ভালো সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আমরা আমাদের সমর্থন জানাতে প্রস্তুত।’