Maharashtra Civic Poll। মহারাষ্ট্রে ‘কিংমেকার’ শিন্ডে শিবিরের ভরসা ‘রিসোর্ট পলিটিক্স’?

Spread the love

পুরসভা নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই মহারাষ্ট্রে ফিরল ‘রিসোর্ট পলিটিক্স।’ এবার বৃহন্মুম্বই পৌরসভা (বিএমসি) নির্বাচনে ‘কিংমেকার’ হিসেবে উঠে এসেছে শিবসেনা (একনাথ শিন্ডে)। আর ভোটের এই ফলাফল প্রকাশ্যের ঠিক একদিন পরেই নিজের দলের বিজয়ী প্রার্থীদের ফাইভ স্টার হোটেলে নিয়ে গিয়ে তুললেন একনাথ শিন্ডে। কারণ, তাঁদের সমর্থন ছাড়া বিজেপির পক্ষে পৌরসভার দখল নেওয়া সম্ভব হবে না। শেষ মুহূর্তে বিজয়ী প্রার্থীদের যাতে ভাঙিয়ে না নেওয়া হয়, তার জন্যই একনাথ সকলকে ফাইভ স্টার হোটেলে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছেন বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ের পৌরসভা যার দখলে, যাবতীয় অর্থ, প্রভাব ও প্রতিপত্তিও তাদের দখলেই থাকে বলে ধারণা প্রচলিত রয়েছে। কোনও পক্ষ যদি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, সেক্ষেত্রে দল ভাঙানোর আশঙ্কা বেড়ে যায়। পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসার পর বর্তমানে মুম্বইয়ে তেমনই পরিস্থিতি বলে জানা যাচ্ছে। দলীয় সূত্রে খবর, একনাথ শিন্ডের শিবসেনার টিকিটে নির্বাচিত ২৯ জন কর্পোরেটরকে বান্দ্রার তাজ ল্যান্ডস অ্যান্ড হোটেলে পৌঁছতে বলা হয়েছে। তাঁদের অন্তত তিন দিন সেখানেই থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য হল-প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলির ‘হর্স-ট্রেডিং’ বা ‘পোচিং’ ঠেকানো, যখন পুরসভায় ক্ষমতা গঠনের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিএমসিতে ২৯টি আসন পেয়ে একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠী বিজেপির সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসাবে উঠে এসেছে, কারণ বিজেপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। দলীয় নেতাদের দাবি, এই পরিস্থিতিতে একনাথ শিন্ডে কোনও ঝুঁকি নিতে চান না। শিবসেনার সব কর্পোরেটরকে একসঙ্গে রেখে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান।

ভারতীয় রাজনীতিতে বহুবার দেখা গেছে, সরকার বা পৌরসভা গঠনের সংবেদনশীল সময়ে জনপ্রতিনিধিদের লাক্সারি হোটেল বা রিসোর্টে রাখা হয় যাতে ভাঙন রোধ করা যায়। মুম্বইর ক্ষেত্রেও সেই ‘রিসোর্ট পলিটিক্স’-এর দৃশ্য আবার ফিরে এসেছে। ২০১৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী অচলাবস্থায় শিবসেনা, কংগ্রেস ও এনসিপির বিধায়কদের আলাদা হোটেলে রাখা হয়েছিল, যাতে শিবির পরিবর্তন না হয়। এমনকী ২০২২ সালে শিবসেনা ভেঙে যাওয়ার সময় একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠীর বিধায়কদের প্রথমে সুরাট, পরে গৌহাটি ও গোয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই ঘটনা তখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

বিরোধীদের কটাক্ষ ও প্রতিক্রিয়া

এই পরিস্থিতিতে একনাথ শিন্ডেকে কটাক্ষ করে কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সৈয়দ নাসির হুসেন বলেন, ‘তিনি কাকে ভয় পাচ্ছেন? কে তাঁর কাউন্সিলরদের দখল করতে পারে? দখল করার অভিজ্ঞতা কার আছে?’ তাঁর অভিযোগ, ‘মহারাষ্ট্র এবং বিহারের মতো রাজ্যে এর স্ট্রাইক রেট সবচেয়ে বেশি। একনাথ শিন্ডে যত তাড়াতাড়ি এটি বুঝতে পারবেন, ততই তার জন্য মঙ্গল।’ এদিকে সাংবাদিক বৈঠকে শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে বলেন, তিনি সব পৌরসভায় প্রচার করতে পারেননি বলে দুঃখিত। তবে ভোটারদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, এই নির্বাচন ছিল ‘শাসক জোটের পরিচালিত সবচেয়ে জঘন্য নির্বাচন।’ বিএমসির মেয়র নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নে উদ্ধব ঠাকরে বলেন, তার দল এখনও মুম্বইতে নিজেদের মেয়র দেখতে চায়, কিন্তু সংখ্যার বিচারে তা সম্ভব নয়।

এই নির্বাচনের ফলাফল শাসক মহাযুতি জোটের পক্ষে গেলেও তা একনাথ শিন্ডের জন্য পুরোপুরি সুখকর হয়নি। বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবিশের নেতৃত্বে দল ২২৭টির মধ্যে ৮৯টি ওয়ার্ড জিতে একক বৃহত্তম দলে পরিণত হয়েছে। শিন্ডে শিবসেনা পেয়েছে ২৯টি আসন, ফলে মহাযুতির মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৮-যা ১১৪-এর সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করে। তবে শিন্ডে গোষ্ঠী পুরনো শিবসেনার মুম্বই ভিত্তিক ভোটভিত্তিকে ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। ইউবিটি শিবসেনা এখনও ৬৫টি আসন পেয়ে তাদের থেকে বহুদূরে এগিয়ে। কংগ্রেস পেয়েছে ২৪, এআইএমআইএম ৮ এবং ইউবিটি–এমএনএস–এনসিপি (এসপি) জোট ৭২টি আসন। রাজনৈতিক সমীকরণে তাই এখন শিন্ডে শিবিরই ‘কিংমেকার।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *