গতকাল ব্রিগেডে পাঁচলক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে বিজেপি নেতাদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত ছিলেন রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। রাজ্যপাল সেই অনুষ্ঠানে গেলেও সেখানে যাননি মমতা। এই নিয়ে আজ প্রশ্ন করা হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। কোচবিহারে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এই অনুষ্ঠান বিজেপির হওয়ায় তিনি যাননি।
মমতা বললেন, ‘আমি কী করে যাব বিজেপির প্রোগ্রামে। এটা যদি নিরপেক্ষ কোনও অনুষ্ঠান হত, তাহলে আমি নিশ্চয় যেতাম। বিজেপির অনুষ্ঠানে যাই কীভাবে? আমার তো একটা আদর্শ আছে। যারা নেতাজিকে ঘৃণা করে, যারা গান্ধীজিকে মানে না। আমি তাদের সঙ্গে নেই। আমার বাবা-মা আমাকে এই শিক্ষা দেয়নি। আমার বাংলা আমাকে এই শিক্ষা দেয়নি। আমি সব ধর্মকে সম্মান করি।’
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে একই সংগঠনের উদ্যোগে ব্রিগেডেই হয়েছিল গীতাপাঠ। এদিকে এবারের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত থাকলেও দেখা যায়নি রামদেবকে। এছাড়া আমন্ত্রণ গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও। তবে বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারী, অগ্নিমিত্রা পালরা গিয়েছিলেন।
এদিকে গতকাল গীতাপাঠের অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই হিন্দুরাষ্ট্রের পক্ষে সওয়াল করেন বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রদেশ যখন এক হয়, তখন দেশ তৈরি হয়। তাই বাংলার হিন্দুদের উদ্দেশে আমার বার্তা, আপনারা যখন এক হবেন তখনই ভারত হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত হবে।’ অনুষ্ঠানে গিয়ে সুকান্ত বলেছিলেন, ‘আমরা যা দেখেছি (বাবরি মসজিদের শিলান্যাস), তাতে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে হিন্দু ভোটকে ভাগ করা এবং মুসলিম ভোটকে এক করার চক্রান্ত চলছে। যা হচ্ছে তার জন্য দায়ী হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই ধরনের সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বারবর তোল্লা দিয়ে উপরে তুলেছে। একুশের ভোটে তো মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে সিংহভাগ হিন্দু ভোট দেয়নি। হিন্দুরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশ্বাস করে না।’
