আজকের মোবাইল ফোন এবং প্রযুক্তির সঙ্গে প্রায়শই যে উপমাটি মনে আসে তা হল অটোমোবাইল এবং যখন অটোমোবাইল প্রথম আবিষ্কার করা হয়েছিল তখন মানুষ তাদের গাড়ি থেকে ছিটকে পড়েছিল, মৃত্যুর সংখ্যা ছিল হিসাবের অতীত।
বাবা-মায়েরা প্রায়শই বাচ্ছাদের হাতে স্মার্ট ফোন, ট্যাব ধরিয়ে দেন। কিন্তু জানেন কি ? বাচ্চার সার্বিক বিকাশে এবং বিশেষ করে ভাষা দক্ষতা তৈরির পথে তা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে ?
বিশ্বব্যাপী বাচ্চাদের ‘স্ক্রিন টাইম’ বিপুল হারে বাড়ছে। এমনকি একদম ছোটো বাচ্চারাও এর শিকার, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বর্তমানে দ্রুতগতির জীবনযাত্রায় বাবা-মা বাচ্চাকে বিশেষ সময় দিতে পারেন না তাই বিনোদনের যোগান দিতে হাতে ধরিয়ে দেন স্মার্টফোন। এইভাবেই নিয়মিত এবং দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সংস্পর্শে আসার ফলে তাদের স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। গবেষণা বলছে, এইভাবে দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে থাকার ফলে তা বাচ্ছাদের ভাষাগত বিকাশের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এই গবেষণায় বাচ্চাদের অভিভাবকদের জরিপ করে জানা গেছে যে, ১ থেকে ৪ বছর বয়সি শিশুরা গড়ে প্রতিদিন এক ঘন্টা স্ক্রিন টাইমের সংস্পর্শে আসে। এর মধ্যে অলক্ষ্যে টিভি চালিয়ে রাখাও অন্তর্ভুক্ত।
নিরীক্ষণ করে দেখা গেছে যে যেসব শিশুরা বেশিক্ষণ স্ক্রিনে থাকে তাদের ভাষাগত দক্ষতা কম থাকে। স্পষ্টভাবে কথা বলতে তাদের বেশি সময় লাগে এবং তারা কম শব্দ শেখে। গবেষণায় মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এটি ঘটে কারণ, স্ক্রিনের কারণে, শিশুরা ভাষা দক্ষতা বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় কোনও ধরণের সামাজিকতায় অংশগ্রহণ করতে পারে না।
অতিরিক্ত ফোন ঘাটার দরুণ বাচ্চাদের সৃজনশীলতা ও কল্পনাপ্রবণ মনও তার সহজ বিকাশে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। পড়াশোনায় মনোযোগ কমে আসছে, মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৃদ্ধিও ব্যাহত হচ্ছে।
ফোন নিয়ে এক নাগাড়ে বসে থাকার ফলে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল হচ্ছে না। ফলত, ভবিষ্যতে হৃদরোগ, ওবিসিটির ঝোঁকও বেড়ে যাচ্ছে, আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা, সহমর্মিতার বোধও তৈরি হচ্ছে না, যা বাচ্চাদেরকে ভায়োলেন্ট করে তুলতে পারে।
এই সমস্যাটির বিষয়ে সচেতনতার পাশাপাশি এটির সমাধানের দিকেও মনোযোগ দেওয়া দরকার। শিশুদেরকে বই পড়ে শোনানো, গল্প বলা, তাদের সাথে সময় কাটানো বা কোন শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু দেখার এই ক্রিয়াকলাপগুলিই কথা বলা এবং শেখার জন্য শিশুকে উৎসাহিত করে, যা ভাষা বিকাশে সহায়তা করে।