দিল্লির ভারত মণ্ডপমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সময় তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনার জন্য ‘মানব’ ফ্রেমওয়ার্ক প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কীভাবে মানব-কেন্দ্রিক করা যায় সেদিকে নজর দেওয়া দরকার। এতে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য মানব ফ্রেমওয়ার্ক প্রয়োজন পড়বে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী আজ বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভবিষ্যতে কী হবে তা প্রশ্ন নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আমরা বর্তমানে এর মাধ্যমে কী করি। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি রূপান্তরকারী শক্তি। যদি এটি দিকহীন হয়, তবে তা ধ্বংস হয়ে যাবে এবং যদি এটি সঠিক দিকে এগোয় তবে পরিবর্তন আসবে। আমাদের বুঝতে হবে কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দায়িত্বশীল করে তোলা যায়। এটিই আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শীর্ষ সম্মেলনের উদ্দেশ্য এবং এবারের থিম। আমাদের মন্ত্র হল ‘সর্বজন সুখায় এবং সর্বজন হিতায়’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সবার জন্য গণতান্ত্রিক করতে হবে। মানুষের ক্ষমতায়নের জন্য এটা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে এবং তার জন্য প্রযুক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, আমরা যদি জিপিএসের কথা বলি, তাহলে তা আমাদের পথ দেখায়, কিন্তু আমাদের কোন দিকে যেতে হবে? এই ব্যাপারে আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আজ আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে যে দিকে নিয়ে যাব, তা আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। তাই আমি এআই-এর জন্য মানব দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করছি। এই দৃষ্টিভঙ্গি বলছে যে নৈতিক দিকনির্দেশনার উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত এআই। এছাড়া জাতির সার্বভৌমত্বের যত্ন নিতে হবে। এর অর্থ হল যার কাছে ডেটা রয়েছে তাদেরই সেটার ওপর অধিকার থাকা উচিত। তবে এটা একচেটিয়া নয়। এছাড়া বৈধ নিয়ম অনুযায়ী হতে হবে এটাকে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন যে ভারতের এই মানব দৃষ্টিভঙ্গি ২১ শতকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক বিশ্বে মানব কল্যাণের ভিত্তি হয়ে উঠবে।

মোদী বলেন, কয়েক বছর আগে যখন ইন্টারনেট চালু করা হয়েছিল, তখন কেউ কল্পনাও করতে পারতেন না যে এর ফলে কত কর্মসংস্থান তৈরি হবে। আজ ভবিষ্যতে কীভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে তা কল্পনা করা কঠিন। ভবিষ্যতে আমাদের জন্য অনেক সুযোগ রয়েছে। এটি এমন একটি যুগ যেখানে মানব এবং এআই সিস্টেম একসাথে কাজ করবে। তিনি বলেন, কৃত্রিম মেধা আমাদের কাজকে আরও স্মার্ট ও সফল করে তুলবে। আমরা আরও ভালো ডিজাইন করব। এর ফলে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ কাজ পেতে সক্ষম হবেন। এই উদ্ভাবন আগামীদিনে নতুন সুযোগ বাড়াবে। আমরা যদি মিলেমিশে এগিয়ে যাই, তাহলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমগ্র মানবতার সামর্থ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, কিছু দেশ এবং কোম্পানি বিশ্বাস করে যে ডেটা একটি কৌশলগত সম্পদ। কিন্তু ভারতের চিন্তাভাবনা ভিন্ন। আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রযুক্তি শেয়ার করলেই বিশ্বের জন্য উপকারী হবে।