Noida Hammer Murder। ১৩ বছরের ছোট স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে নৃশংসভাবে খুন বেকার ইঞ্জিনিয়ারের

Spread the love

স্ত্রী পরকীয়া করছেন, এই সন্দেহে তাঁকে খুন করলেন এক ব্য়ক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে নয়ডায়। রিপোর্ট অনুযায়ী, নয়ডার সেক্টর ১৫-এ একটি সংস্থায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারকে হাতুড়ি ও ছুরি দিয়ে নৃশংসভাবে খুন করল বেকার স্বামী। অভিযুক্ত স্বামীর নাম নুরুল্লাহ। মৃতার নাম আসমা। সে নাকি সন্দেহ করত যে, তার স্ত্রীর অন্য পুরুষের সাথে সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া করত সে। এই আবহে নিহত মহিলার ছেলের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। 

জানা গিয়েছে, নয়ডার সেক্টর ১৫-এ অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন করা হয় এই সিভিল ইঞ্জিনিয়ার মহিলাকে। প্রথম হাতুড়ি দিয়ে মাথায় মারা হয় তাঁকে। সেই সময় সাথে সাথে মহিলা অজ্ঞান হয়ে যান সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পুরো শরীরও রক্তাক্ত হয়ে যায়। তারপরও স্বামী তাঁর কপালে ও মাথায় হাতুড়ি ও ছুরি দিয়ে আঘাত করতেই থাকেন। এমন নিষ্ঠুরভাবে আঘাত করা হয়েছিল যে মহিলার মুখ চেনা যাচ্ছিল না। গলায় ছুরির চিহ্নও পাওয়া গিয়েছে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড দেখে স্তম্ভিত সকলেই। 

স্থানীয়দের দাবি, ওই মহিলার কর্মজীবনে সাফল্যের জেরে অস্বস্তিতে পড়েছিল হত্য়াকারী স্বামী। বছরখানেক আগে একটি ফোন কলের জেরে স্বামী নুরুল্লাহ হায়দারের মনে সন্দেহের বীজের জন্ম নিয়েছিল। তার মনে হতে থাকে, স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে অন্য কারও সঙ্গে। এই নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সারারাত স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হয় তার। এরপর সকালে আসমার মা ও নিজের আত্মীয় স্বজনদের ফোন করে নুরুল্লাহ। বিকেলে আত্মীয়-স্বজনরা আসে, তাদের সামনে নুরুল্লাহ তার স্ত্রী আসমাকে নিয়ে ঝগড়া করতে থাকে।

দুজনের ঝগড়ায় বিরক্ত হয়ে ১৯ বছরের ছেলে আসমাকে বলে, মা তুমি দিদার বাড়ি চলে যাও। সবকিছু স্বাভাবিক হলে ফিরে এসো। আসমা ছেলের কথা উপেক্ষা করে বাড়িতেই রয়ে যায়। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও আসমা বাড়ি ছেড়ে যেতে রাজি না হওয়ায় তার মা সেখানেই থেকে যান। বিকেলে সবাই যখন নিজের নিজের ঘরে তখন নুরুল্লাহ আসমাকে খুন করে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তকারী দল যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়, তখন মহিলার দেহ রক্তে ভিজে গিয়েছিল। তাঁর নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আশপাশের লোকজন জানান, আসমা বেশ খোলা মনের ছিলেন এবং মানুষকে সাহায্য করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতেন। সঙ্গে নিজের পরিবারের আকাশছোঁয়া দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। নুরুল্লাহ ও আসমার বয়সের ব্যবধান ছিল প্রায় ১৩ বছর।

এদিকে স্ত্রীকে খুনের পর খুনের পর খুন হওয়া স্বামী ঘর থেকে বেরিয়ে থানায় চলে যায়। যেখানে খুনের ঘটনা ঘটেছে সেটি ফেজ ওয়ান থানা এলাকার অন্তর্গত, কিন্তু খুনের পর খুনি সেক্টর-২০ থানায় পৌঁছে যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, বিহারের চম্পারণের বাসিন্দা নুরুল্লাহ হায়দারের বিয়ে হয়েছিল ২০০৫ সালে। তার স্ত্রী আসমা ছিলেন দিল্লির জামিয়া নগরের বাসিন্দা। সি ব্লকের একটি তিনতলা বাড়িতে এক মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে থাকতেন তাঁরা। ৫৫ বছর বয়সি নুরুল্লাহ পেশায় ইঞ্জিনিয়ার হলেও বর্তমানে সে কোথাও চাকরি করছিল না। এদিকে ৪২ বছরের আসমা ৬২ নম্বর সেক্টরের একটি সংস্থায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *