ক্যানসার শুধু বার্ধক্যের রোগ – এই ধারণা ক্রমশ পালটে যাচ্ছে। সারা ভারতে এখন ৩০ বছর বা ৪০ বছরের কোঠায় থাকা বহু মানুষ এমন সব ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন, যা আগে মূলত বেশি বয়সিদের মধ্যেই দেখা যেত। এই পরিবর্তন কাকতালীয় নয়; এটি আধুনিক জীবনযাত্রা, জীবনযাপনের প্রভাবেরই প্রতিফলন। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের ক্ষেত্রে সেই বিষয়টা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্যানসার পর্যবেক্ষক সংস্থার তথ্য বলছে, বর্তমানে শনাক্ত হওয়া ক্যানসারের একটি বড় অংশই পরিবর্তনযোগ্য জীবনধারা ও পরিবেশগত ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। নগরায়ন, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, বসে কাজ করার প্রবণতা, কম বয়সেই তামাক ও অ্যালকোহলের সংস্পর্শ, স্থূলতা এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ – সবমিলিয়ে ভারতের ক্যানসারের চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
লাইফস্টাইল ক্যানসার কী?
লাইফস্টাইল ক্যানসার বলতে সেই সব ক্যানসারকে বোঝায়, যেখানে দৈনন্দিন অভ্যেস ও পরিবেশগত সংস্পর্শ রোগের ঝুঁকি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জেনেটিক কারণও উপেক্ষা করা যায় না। তবে এই ক্যানসারগুলির বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য বা নিয়ন্ত্রণযোগ্য আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত ।

ভারতে মূলত কী ধরনের লাইফস্টাইল-সম্পর্কিত ক্যানসার হয়?
১) মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যানসার: ধূমপান, ধোঁয়াবিহীন তামাক, সুপারি ও অ্যালকোহল সেবনের সঙ্গে সরাসরি যোগ আছে মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যানসার।
২) ফুসফুসের ক্যানসার: ধূমপায়ী ছাড়াও দূষিত বায়ু ও প্যাসিভ স্মোকিংয়ের কারণে নন-স্মোকারদের মধ্যেও বাড়ছে ফুসফুসের ক্যানসারের প্রবণতা।
৩) স্তন ক্যানসার: কমবয়সি মহিলাদের মধ্যে বৃদ্ধি পাচ্ছে স্তন বা ব্রেস্ট ক্যানসার। স্থূলতা, বিপাকীয় সমস্যা, দেরিতে সন্তানধারণ ও কম শারীরিক সক্রিয়তার মতো বিষয়গুলি এই ক্যানসারের সম্ভাব্য কারণ।
৪) কোলোরেক্টাল ক্যানসার: কম ফাইবারযুক্ত খাদ্য, প্রসেসড খাবার, স্থূলতা ও বসে থাকা জীবনযাপনের ফল ।
৫) লিভার ক্যানসার: অ্যালকোহল সেবন, ফ্যাটি লিভার ও বিপাকীয় রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত ।
৬) এন্ডোমেট্রিয়াল ও প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার: স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘমেয়াদি জীবনধারাগত কারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।