২০২৫ সালের অক্টোবরে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে রীতিমতো যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। সেই সময় পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন সেনা জওয়ানকে আটক করেছিল আফগানিস্তান। সীমান্ত পারের লড়াইয়ে বন্দি এমনই তিন পাকিস্তানি সেনাকে মুক্তি দিয়েছে আফগান সরকার। পবিত্র রমজান মাসের পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানায় তালিবান সরকার।
আফগান তালিবানি সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে বলেছেন, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কাবুলে পৌঁছানো সৌদি প্রতিনিধি দলের কাছে এই সেনাদের হস্তান্তর করা হয়েছে। এই সৌদি প্রতিনিধি দলটি পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতা করছিল। মুজাহিদ জানান, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর সংঘাতের সময় এই তিন পাক সেনাকে বন্দি করা হয়েছিল। এদিকে তিন সেনার মুক্তির বিষয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। এর আগে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পরে স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনা হলেও তা ব্যর্থ হয়েছিল। তুরস্কের মধ্যস্থতায় সেই আলোচনা হয়েছিল। তবে আলোচনায় কোনও সুনির্দিষ্ট সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসেনি। তবে এবার সৌদি মধ্যস্থতায় বরফ গলার ইঙ্গিত মিলেছে।
উল্লেখ্য, ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি ও আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যে ভয়াবহ সংঘর্ষ বেঁধেছিল, তার কেন্দ্রে ছিল ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)। পাকিস্তানের দাবি, টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে আফগান তালিবান। আর সেই সব জঙ্গি তারপর পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। এদিকে তালিবানের পালটা অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার এবং সেনা ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি সংগঠনকে সাহায্য করছে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বাইতুল্লাহ মেহসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তানের ফেডারেল শাসিত উপজাতি এলাকার বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে একত্র করে টিটিপি গঠিত হয়। এই গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর জন্ম হয়েছিল। বর্তমানে টিটিপির মূল লক্ষ্য হল পাকিস্তানের সরকারকে সরিয়ে তাদের নিজস্ব মতাদর্শে একটি ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

এই আবহে গত ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর মধ্যরাতের দিকে কাবুলের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর পাক সীমান্তে সেনা আউটপোস্টে পালটা হামলা চালায় আফগনরা। সেই হামলায় পাকিস্তানের ৫৮ সেনা জওয়ান নিহত বলে দাবি করে তালিবান। এদিকে পাক সেনা দাবি করে, তাদের ২৩ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। তারপর গত ১৪ অক্টোবর রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। তাতে কমপক্ষে ১৫ আফগান নাগরিক এবং পাকিস্তানি আধাসামরিক বাহিনীর ৬ জন নিহত হয়েছিল। পরে নভেম্বরের শুরুতেও ফের আফগানিস্তানের স্পিন বলডক অঞ্চলে পাকিস্তানের তরফ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল।