রবিবার ভোর হতে না হতেই আফগানিস্তান সীমান্তে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি পাকিস্তানের। এই হামলায় কয়েক ডজন টিটিপি যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে পাক বাহিনীর তরফ থেকে। বিমান হামলার অনেক ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এদিকে আফগান মিডিয়া দাবি করেছে, পাকিস্তানি এই হামলায় ধ্বংস হয়েছে একটি মাদ্রসা। সব মিলিয়ে আফগানিস্তানের পাকতিকার বারমাল ও উরগুন জেলা, নানগারহারের খোগ্যানি, বেহসুদ এবং গনিখেল জেলাগুলিতে হামলা চালায় পাকিস্তান। এই হামলায় মৃত্যু হয়েছে ১৭ জন সাধারণ আফগান নাগরিকের।
এই এয়ারস্ট্রাক কি আত্মঘাতী হামলার প্রতিশোধ ছিল? বলা হচ্ছে, শনিবার পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় আত্মঘাতী হামলার জবাবে এই এয়ারস্ট্রাইকের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার গোয়েন্দা অভিযান চলাকালীন এক আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছিল টিটিপি। সেই হামলায় পাকিস্তানের দুই নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছিলেন। আর সেই হামলার ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই এই এয়ারস্ট্রাইক করা হল।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি ও আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যে ভয়াবহ সংঘর্ষ বেঁধেছিল, তার কেন্দ্রে ছিল ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)। পাকিস্তানের দাবি, টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে আফগান তালিবান। আর সেই সব জঙ্গি তারপর পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। এদিকে তালিবানের পালটা অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার এবং সেনা ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি সংগঠনকে সাহায্য করছে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বাইতুল্লাহ মেহসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তানের ফেডারেল শাসিত উপজাতি এলাকার বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে একত্র করে টিটিপি গঠিত হয়। এই গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর জন্ম হয়েছিল। বর্তমানে টিটিপির মূল লক্ষ্য হল পাকিস্তানের সরকারকে সরিয়ে তাদের নিজস্ব মতাদর্শে একটি ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

এই আবহে গত ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর মধ্যরাতের দিকে কাবুলের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর পাক সীমান্তে সেনা আউটপোস্টে পালটা হামলা চালায় আফগনরা। সেই হামলায় পাকিস্তানের ৫৮ সেনা জওয়ান নিহত বলে দাবি করে তালিবান। এদিকে পাক সেনা দাবি করে, তাদের ২৩ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। তারপর গত ১৪ অক্টোবর রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। তাতে কমপক্ষে ১৫ আফগান নাগরিক এবং পাকিস্তানি আধাসামরিক বাহিনীর ৬ জন নিহত হয়েছিল। পরে নভেম্বরের শুরুতেও ফের আফগানিস্তানের স্পিন বলডক অঞ্চলে পাকিস্তানের তরফ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল। আর এবার আফগান সীমান্তের কাছে টিটিপি ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালাল পাকিস্তান।