বালোচিস্তানে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের সামনে পাকিস্তানি সেনার নাজেহাল দশা। আর সেই দুর্দশার কথা পাকিস্তানের সংসদে তুলে ধরলেন সেই দেশেরই প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তাঁর কথায়, বালোচিস্তানের বিশাল এলাকায় বিদ্রোহীদের সামনে কার্যত ‘অক্ষম’ হয়ে পড়েছে আসিম মুনিরের বাহিনী। বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মির সাম্প্রতিক হামলায় পাকিস্তানি পঞ্জাবি অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করেছেন খাজা আসিফ। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বালোচিস্তানের বিদ্রোহীদের মজিদ ব্রিগেড, ফতেহ স্কোয়াড বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জাফর এক্সপ্রেসে হামলা ছাড়াও একাধিক জায়গায় পাক সেনার ওপর হামলা চালিয়েছে তারা। তবে এভাবে একযোগে এতগুলো জায়গায় সাম্প্রতিককালে হামলা চালানো হয়নি পাকিস্তানে। এই পরিকল্পিত হামলায় পাক সেনা কার্যত ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল। আর সেই কথাটাই ফুটে উঠল পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কথায়।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বালোচিস্তান জুড়ে একসঙ্গে একাধিক জায়গায় হামলা চালিয়েছিল বিএলএ। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সেই সব হামলায় কমপক্ষে ৮০ জন পাকিস্তানি সেনা জওয়ানের প্রাণ গিয়েছে। কম করে ৩০টি সরকরারি ভবন ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও পাকিস্তানি সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তাবাহিনীর মাত্র ১৭ জন এই সব হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এরই সঙ্গে ৩৩ জন সাধারণ পাক নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন। বদলে ১৭৭ জন বিদ্রোহীকে নাকি পাকিস্তানি সেনা মেরেছে।
পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখার সময় দাবি করেন, বালোচিস্তানে ভৌগলিক কারণে সমস্যায় পড়েছে পাকিস্তানি সেনা। আসিফ বলেন, ‘পাকিস্তানের জমির ৪০ শতাংশ বালোচিস্তানে। জনবহুল কোনও শহরের তুলনায় এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক বেশি কঠিন। সেখানে বিপুল পরিমাণ সেনা মোতায়েন করতে হয়। বালোচদের বিরুদ্ধে আমাদের সেনা লড়াই করে চলেছে। কিন্তু এত বড় এলাকা পাহারা দেওয়া এবং টহল দেওয়ার জন্য শারীরিকভাবে তারা অক্ষম।’ এদিকে খাজা আসিফ বলেন, বালোচ বিদ্রোহীদের কাছে এমন অত্যাধুনিক রাইফেল আছে যা পাক সেনার কাছেও নেই। বালোচদের কাছে নাইট ভিশন চশমাও নাকি আছে।

এদিকে খাজা আসিফ জানিয়েছেন, বালোচ লিবারেশন আর্মির সঙ্গে আলোচনায় বসবে না পাকিস্তান। এদিকে বালোচিস্তান প্রদেশের আমলাতন্ত্রও নাকি এই বিচ্ছিনতাবাদীদের সঙ্গে যুক্ত বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন আসিফ। তাঁর কথায়, ‘বালোচিস্তানে বিভিন্ন জনজাতি নেতা, আমলাতন্ত্র এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন পরিচালনাকারীরা একটি জোট গঠন করেছে।’