কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান ও কাজাখস্তানের তরফ থেকে ইসলামাবাদ একটি যৌথ ঘোষণাপত্র জারি করেছিল গত ৪ ফেব্রুয়ারি। সেই ঘোষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে যে উভয় দেশই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যুর সমাধানকে সমর্থন করে। তবে সেই ঘোষণাপত্রের কোনও উল্লেখ কাজাখস্তানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট কিংবা তাদের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার রিপোর্টে নেই। কাজাখস্তানের জারি করা সরকারি নথিতে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সংযোগ এবং বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে কথা বলে। এই আবহে সেই যোঘণাপত্র আদৌ ‘যৌথ’ কি না, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ পুড়েছে পাকিস্তানের।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের জারি করা যৌথ ঘোষণার ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদে কাশ্মীরের উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে পাকিস্তান এবং কাজাখস্তানের মধ্যে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। খনিজ শিল্প ও ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞানে সহযোগিতা, রাষ্ট্রসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যৌথ ইউনিট মোতায়েন এবং করাচি ও গোয়াদার বন্দরে কাজাখস্তানের প্রবেশাধিকার এবং পরিবহণ করিডোর নিয়ে আলোচনা হয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয় উভয় পক্ষের।
এদিকে কাজাখস্তান ঐতিহ্যগতভাবে কাশ্মীর ইস্যুতে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। ভারতের সাথে কাজাখস্তানের গভীর কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ভারত বরাবরই কাশ্মীরকে দ্বিপক্ষীয় ইস্যু হিসাবে বিবেচনা করে এবং তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের বিষয়টি গ্রাহ্য করে না। এছাড়া রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলিতে পুরনো হওয়ায় সেগুলিরও বিরোধিতা করে ভারত। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কাজাখস্তান যদি সত্যিই এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করে থাকে, তাহলে তা ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। তবে কাজাখস্তান থেকে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি। এই আবহে এই ‘যৌথ বিবৃতি’ পাকিস্তানের একটি ‘কূটনৈতিক কৌশল’ হতে পারে।
